ড. ইউনূসসহ সাবেক ২৪ উপদেষ্টার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইনি নোটিশ
ফাইল ছবি
হামের টিকাদান কর্মসূচি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা থেকে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে এই প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকার অভিযোগে ওঠা ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের’ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন জানানো হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। নোটিশের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট দিয়েছেন।
আইনি নোটিশে দাবি করা হয়েছে, হামের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর একটি টিকাদান কর্মসূচিকে রাষ্ট্রীয় কাঠামো থেকে বেসরকারি খাতে সরিয়ে নেওয়া একটি অশুভ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। এই সিদ্ধান্তের ফলে বর্তমানে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে ইতোমধ্যে শতাধিক শিশুর মৃত্যুসহ অসংখ্য মানুষ আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে। জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়েছে নোটিশে।
আরও পড়ুন: হাইকোর্টের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ
নোটিশদাতা আইনজীবী ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়াও সাবেক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আদিলুর রহমান খাঁন শুভ্র, নূরজাহান বেগম, ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাখাওয়াত হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মোস্তফা সরয়ার ফারুকীসহ উপদেষ্টা পরিষদের সকল সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষ সহকারী ও ব্যক্তিগত সহকারীদের নামও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ২৪ জনের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার দাবি জানানো হয়েছে।
এই লিগ্যাল নোটিশে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বাস্থ্য সচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবদের বিবাদী করা হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার পরবর্তী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং অভিযুক্তদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হলে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়েরসহ কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম।
তবে এই লিগ্যাল নোটিশের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বর্তমানে দেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি এবং টিকাদান নীতির এই পরিবর্তন নিয়ে সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








