News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:২২, ৩১ মার্চ ২০২৬

৫ টাকার জন্য খুনের মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

৫ টাকার জন্য খুনের মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

ফাইল ছবি

রাজধানীর ফার্মগেটের ইন্দিরা রোডে মাত্র পাঁচ টাকা দিতে দেরি করায় জুলহাস মিয়া নামে এক কেয়ারটেকারকে ছুরিকাঘাতে হত্যার দায়ে মো. কাজল নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন; পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবারও কারাগারে পাঠানো হয়। 

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ঢাকার ১১তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. নূরুল ইসলাম এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। ফাঁসির দণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, নিহত জুলহাস মিয়া কুমিল্লার হোমনা উপজেলার দরিচর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ফার্মগেটের ২৫/বি ইন্দিরা রোডের একটি বাসায় প্রায় ৩০ বছর ধরে কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১৮ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে বাসার পাশের ‘রাজা অ্যান্ড কোং’ নামের একটি সিমেন্টের দোকানের সামনে গেলে আসামি কাজল তার কাছে ৫ টাকা চান। টাকা দিতে সামান্য দেরি হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে কাজল তার হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে জুলহাস মিয়ার নাভির ওপর সজোরে আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। পরে পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন: আমির হামজার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা

ঘটনার দিনই নিহতের ছেলে মো. সাইফুল শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ কাজলকে গ্রেপ্তার করে এবং পরদিন তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তদন্ত শেষে একই বছরের ৯ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মো. সুজানুল ইসলাম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে ১৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। সাক্ষ্যপ্রমাণ, জবানবন্দি ও যুক্তিতর্ক পর্যালোচনা শেষে আদালত কাজলকে দোষী সাব্যস্ত করে এই রায় প্রদান করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কাজল নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার জারিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ২০১৮ সালের ২৫ মার্চ থেকে কারাগারে আছেন। আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, দণ্ড কার্যকরের আগে উচ্চ আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়