ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প: ৩ দেশে সুনামি সতর্কতা
ছবি: সংগৃহীত
ইন্দোনেশিয়ার উত্তর মালুক্কা সাগর অঞ্চলে আঘাত হেনেছে এক শক্তিশালী ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৭.৪।
বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) স্থানীয় সময় ভোরে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর ইন্দোনেশিয়া ছাড়াও প্রতিবেশী ফিলিপাইন ও মালয়েশিয়ার বিস্তীর্ণ উপকূলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় ভোর ৬টা ৪৮ মিনিটে এই কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে (যদিও কিছু সংস্থা গভীরতা ১০ থেকে ৬৬ কিলোমিটারের মধ্যে দাবি করেছে)। এর উপকেন্দ্রটি উত্তর মালুক্কু প্রদেশের তেরনাতে শহর থেকে প্রায় ১২৭ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এবং মাজু দ্বীপের কাছে অবস্থিত। প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পটির মাত্রা ৭.৮ হিসেবে ধারণা করা হলেও পরবর্তীতে তা সংশোধন করে ৭.৪ নির্ধারণ করা হয়।
মার্কিন সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র এবং প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে ১ হাজার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও মালয়েশিয়ার উপকূলে বিপজ্জনক সুনামির ঢেউ আছড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ার কিছু উপকূলে জোয়ারের স্বাভাবিক উচ্চতার চেয়ে শূন্য দশমিক ৩ থেকে ১ মিটার পর্যন্ত উঁচু ঢেউ ওঠার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জাপান, তাইওয়ান, পাপুয়া নিউগিনি ও গুয়ামের উপকূলে সমুদ্রপৃষ্ঠের সামান্য পরিবর্তন (শূন্য দশমিক ৩ মিটারের কম) হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, তাদের উপকূলে সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ২ মিটার ঢেউ আসতে পারে, তবে বড় ক্ষতির সম্ভাবনা নেই।
আরও পড়ুন: ভানুয়াতু দ্বীপপুঞ্জে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, উত্তর সুলাওয়েসি প্রদেশের মানাদো শহরসহ পার্শ্ববর্তী দ্বীপগুলোতে দীর্ঘ সময় ধরে কম্পন অনুভূত হওয়ায় মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গভীর ঘুমে থাকা মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। উত্তর সুলাওয়েসি অঞ্চলের একটি ক্রীড়া ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে কিছু ঘরবাড়ি ও ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ছবি প্রকাশিত হয়েছে। ভূমিকম্পের সময় একটি স্কুলে ক্লাস শুরু হলেও কম্পন শুরু হওয়ার সাথে সাথে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে বাইরে বেরিয়ে আসে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তেরনাতে ও তিদোরসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সম্ভাব্য নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ (Ring of Fire) অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় এটি অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের কারণে এখানে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। এর আগে ২০২২ সালে পশ্চিম জাভার সিয়ানজুরে ৫.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে ৬০২ জন এবং ২০১৮ সালে সুলাওয়েসিতে ভূমিকম্প ও সুনামিতে ৪ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি প্রাণহানি ঘটেছিল। এছাড়া ২০০৪ সালে ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট প্রলয়ংকরী সুনামিতে ২ লক্ষ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হন, যার কেন্দ্রস্থল ছিল ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশ।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








