এআই ডেটা সেন্টারে বাড়ছে তাপমাত্রা, ঝুঁকিতে ৩৪ কোটি মানুষ
ছবি: সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি জীবনকে সহজ করলেও পরিবেশে এর নেতিবাচক প্রভাব ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, এআই পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত ডেটা সেন্টার থেকে নির্গত তাপ আশপাশের এলাকার তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ ঘটনাকে ‘ডেটা সেন্টার হিট আইল্যান্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩৪ কোটি মানুষ এমন এলাকায় বসবাস করেন, যা কোনো না কোনো ডেটা সেন্টারের ১০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে। ফলে তারা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রার মধ্যে বসবাস করছেন।
গবেষকেরা গত ২০ বছরের স্যাটেলাইট তথ্য বিশ্লেষণ করে বিশ্বের ৮ হাজার ৪০০টিরও বেশি ডেটা সেন্টারের অবস্থান ও আশপাশের তাপমাত্রার পরিবর্তন পর্যালোচনা করেন। এতে দেখা যায়, একটি ডেটা সেন্টার চালুর কয়েক মাসের মধ্যেই আশপাশের তাপমাত্রা গড়ে প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ বৃদ্ধি ৯.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছায়।
এই তাপের প্রভাব কেবল ডেটা সেন্টারের ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব প্রায় ১০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। এমনকি ৭ কিলোমিটার দূরেও তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বজায় থাকে।
গবেষক আন্দ্রেয়া মারিনোনি বলেন, মেক্সিকোর বাজিও অঞ্চল ও স্পেনের আরাগন প্রদেশে ২০০৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে তাপমাত্রা প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে, যার পেছনে ডেটা সেন্টারের ভূমিকা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, এআই মডেল পরিচালনায় বিপুল বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। প্রসেসরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ প্রবাহের ফলে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়, যা কুলিং সিস্টেমের মাধ্যমে বাইরে বেরিয়ে এসে স্থানীয় পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে।
আরও পড়ুন: ১৬৮ কর্মী ছাঁটাই করছে মেটা
গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, ডেটা সেন্টারের নকশা ও স্থাপন বিষয়ে এখনই সচেতন না হলে ভবিষ্যতে স্থানীয় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি আরও বাড়বে। সূত্র: নিউ সায়েন্টিস্ট
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি








