News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৮:৪৯, ১৫ জুলাই ২০২৫
আপডেট: ০৯:০৭, ১৫ জুলাই ২০২৫

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় একদিনেই নিহত ৭৮ ফিলিস্তিনি

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় একদিনেই নিহত ৭৮ ফিলিস্তিনি

ছবি: সংগৃহীত

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর তীব্র হামলায় একদিনেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৭৮ জন ফিলিস্তিনি। নিহতদের মধ্যে অনেকে ছিলেন ত্রাণ নিতে যাওয়া সাধারণ মানুষ। 

মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদে বলা হয়েছে,ক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরে একটি ত্রাণ বিতরণকেন্দ্রের কাছে চালানো ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন। এতে গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের (জিএইচএফ) আশপাশের ত্রাণকেন্দ্রগুলোতে ইসরায়েলি হামলায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩৮ জনে।

এছাড়া খান ইউনুস শহরের একটি শরণার্থী শিবিরে বিমান হামলায় ৯ জন নিহত হন। কেন্দ্রীয় গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে এক বাণিজ্যিক ভবনে হামলায় প্রাণ হারান আরও ৪ জন।

গাজার উত্তরে ও গাজা শহরে ইসরায়েলি হামলা জোরদার হয়েছে। গাজা শহরে একটি অ্যামবুশে রকেট হামলায় ইসরায়েলের একটি ট্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং গোলাগুলিতে তিনজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হন। এর প্রতিক্রিয়ায় টুফাহ ও শুজাইয়া এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল, যেখানে বহু আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়। ওয়াফার তথ্যমতে, গাজা শহরে অন্তত ২৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা গাজায় জরুরি মানবিক সহায়তা পাঠানোর আহ্বান জানালেও বাস্তবতা ভিন্ন। ইসরায়েলের জ্বালানি নিষেধাজ্ঞার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে বহু পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র, পাম্প স্টেশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা। হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি পরিষেবাগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক এক চুক্তির পরও পরিস্থিতির তেমন উন্নয়ন হয়নি বলে অভিযোগ মিসরের। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলআত্তি বলেন, "চুক্তি হলেও বাস্তব পরিবর্তন হয়নি।"

আরও পড়ুন: গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে দাবানল: পুড়ে ছাই ৯৬ বছরের ঐতিহাসিক লজ

এদিকে কাতারে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়ালেও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। আলোচনায় ইসরায়েলি সেনা মোতায়েনের মানচিত্র এবং অস্ত্রবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানায় মধ্যস্থতাকারী একটি সূত্র। তবে হামাস অভিযোগ করেছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু আলোচনায় আগ্রহী নন এবং বারবার তা ভেঙে দিচ্ছেন।

অন্যদিকে দেশটির অভ্যন্তরে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চাপ বাড়ছে। সেনা হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হচ্ছে এবং জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভ জমছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়