শতবর্ষে অসুস্থ মাহাথির, হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি
ছবি: সংগৃহীত
শারীরিক অবসাদ ও দুর্বলতার কারণে বর্তমানে কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রবীণ রাষ্ট্রনায়ক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ।
রবিবার (১৩ জুলাই) বিকেলে তার কার্যালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী পর্যবেক্ষণে আছেন এবং আশা করা হচ্ছে, দিন শেষে তিনি বাসায় ফিরতে পারবেন।
গত বৃহস্পতিবার (১১) জুলাই মাহাথির মোহাম্মদের শততম জন্মদিন উপলক্ষ্যে পারিবারিকভাবে একটি পিকনিকের আয়োজন করা হয়। এতে তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে উপস্থিত হন। পরদিন ১২ জুলাই ছিল তার স্ত্রী হাসমাহ মোহাম্মদ আলির ৯৯তম জন্মদিন। দুজনের যৌথ জন্মদিন উদ্যাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাহাথির প্রায় এক ঘণ্টা সাইকেল চালান। এরপরই তিনি ক্লান্তি ও অস্বস্তি বোধ করেন এবং অনুষ্ঠান ছেড়ে আগেভাগেই চলে যান।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, এসময় তাকে শারীরিকভাবে দুর্বল ও ক্লান্ত দেখায়। ফলে ১৩ জুলাই সকালে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মাহাথির মোহাম্মদ দীর্ঘদিন ধরেই হৃদ্রোগে ভুগছেন। অতীতে একাধিকবার বাইপাস সার্জারি করা হয়েছে তার। গত কয়েক বছরে শ্বাসযন্ত্র ও হৃদ্রোগ সংক্রান্ত কারণে একাধিকবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত সংক্রমণের কারণে তিনি আইজেএনে ভর্তি হয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলি হামলায় গাজায় আরও ১১০ ফিলিস্তিনির মৃত্যু
বর্তমান অবস্থায় মাহাথির স্থিতিশীল রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে তার দপ্তর। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার বর্তমান অসুস্থতা গুরুতর নয় এবং এটি জন্মদিন উদ্যাপনকালে অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমের কারণে সৃষ্ট সাময়িক অবসাদ ও ক্লান্তি।
ডাক্তারি পেশা থেকে রাজনীতিতে আসা মাহাথির মোহাম্মদ প্রথমবার ১৯৮১ সালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। একটানা ২২ বছর (১৯৮১–২০০৩) ক্ষমতায় থেকে তিনি দেশের শিল্প, অবকাঠামো এবং শিক্ষা খাতে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন করেন।
২০১৮ সালে, দীর্ঘ বিরতির পর তিনি বিরোধীদলীয় জোট পাকাতান হারাপানের নেতৃত্বে ঐতিহাসিক বিজয়ের মাধ্যমে আবারও প্রধানমন্ত্রী হন। তবে দলীয় কোন্দলের কারণে তার দ্বিতীয় মেয়াদ মাত্র ২২ মাস স্থায়ী হয়। এরপর ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি পার্লামেন্ট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মাহাথির মোহাম্মদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, শতবর্ষে পৌঁছেও মাহাথির নিজে গাড়ি চালিয়ে জন্মদিন উদ্যাপনে গেছেন, এটি তার জীবনশক্তির দৃষ্টান্ত। তবে শারীরিক সক্ষমতা হ্রাস পাওয়া স্বাভাবিক এবং দ্রুত বিশ্রামই তার জন্য উপযুক্ত।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই প্রভাবশালী নেতার বয়সজনিত শারীরিক জটিলতা থাকলেও আপাতত বড় কোনো শঙ্কা নেই বলেই ধারণা করা হচ্ছে। জাতির ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী মাহাথির মোহাম্মদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন দেশের বিভিন্ন মহল ও আন্তর্জাতিক শুভানুধ্যায়ীরা।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








