News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৬:২২, ২১ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ২১:০৭, ১৭ জানুয়ারি ২০২০

খালেদার গাড়িবহরে হামলার কথা স্বীকার করলেন ছাত্রলীগকর্মী

খালেদার গাড়িবহরে হামলার কথা স্বীকার করলেন ছাত্রলীগকর্মী

ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় জড়িত এক ছাত্রলীগ কর্মীর পরিচয় পাওয়া গেছে। আল আমিন নামে ওই কর্মী তেজগাঁও থানা ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য। খালেদার গাড়িবহরে থাকা সিএসএফের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট ছোঁড়েন তিনি। নিউজ বাংলাদেশের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে তার পরিচয়। আল আমিন নিজেও হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এছাড়া কয়েকদিন আগে ঢাকা উত্তরের মেয়র প্রার্থী আনিসুল হকের গণসংযোগেও তাকে দেখা যায়।

এ হামলায় আল আমিনের সঙ্গে ছিলেন জাকির, রায়হান, সবুজসহ আরো কয়েকজন। তেজগাঁও থানা আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মাওলা চৌধুরী মালার নির্দেশে এ হামলায় ঢাকা উত্তর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সোমবার বিকেলে কাওরান বাজারে গণসংযোগ করতে যান খালেদা জিয়া। খালেদার বক্তব্যের সময় হঠাৎ করেই তার গাড়িবহর লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোঁড়া শুরু হয়। কয়েকজনকে লাঠি নিয়েও আক্রমণ করতে দেখা যায়। এ ঘটনায় ছাত্রলীগ কর্মী আল আমিন সক্রিয় জড়িত ছিলেন বলে স্থানীয় এক দোকানদারও জানান। এছাড়া ছবিতে দেখা গেছে, আল আমিন ক্ষুব্ধ হয়ে সিএসএফের একটি মাইক্রোবাসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।

হামলার ছবিতে আল আমিনের গায়ে সাদার উপর বেগুনি রঙের চেক শার্ট পরিহিত অবস্থায় দেখা গেছে। তার পরনে ছিল জিন্স প্যান্ট। একটি ছবিতে দেখা যায়, আল আমিন জুতা হাতে একটি মাইক্রোবাসের দিকে তেড়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে আল আমিনের সঙ্গে কথা হয় গভীর রাতে। তিনি বলেন, “প্রথমে আমার হাতে একটি ইটের টুকরা এসে পড়ে। আমি হাতে ব্যথা পাই। তারপরই আমি প্রতিবাদ করেছি।”

‘কেন হামলা চালিয়েছেন’ এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আপনারা সাংবাদিক। আপনারা তো ভালোই বুঝেন, কেন এমন করেছি।”

আল আমিনকে কয়েকদিন আগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আনিসুল হকের সঙ্গে দেখা যায়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আনিসুল হককে খুব পছন্দ করি, ভালোবাসি। তাই তার প্রচারণায় অংশ নিয়েছি।”

এছাড়া তেজগাঁও থানার ২৬নং ওয়ার্ডে ছাত্রলীগের একটি সভায় বক্তব্য দিতেও তাকে দেখা যায়।

তবে আনিসুল হক তাকে চেনেন না বলে নিউজবাংলাদেশকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “ছাত্রলীগের দু্ই একজন ছাড়া আমি কাউকে চিনি না। আমার পাশে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ হাঁটছে। কে ছাত্রলীগ, কে আমজনতা এ বিষয়ে খেয়াল রাখার সময় পাই না। কে কখন কোথায় হেঁটেছে, সেটি আমি জানি না।”

হামলায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা অংশ নিয়েছে বলে অভিযোগ করেন গণসংযোগে উপস্থিত থাকা যুবদল ও ছাত্রদলের কয়েকজন। ঢাকা উত্তর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মিজানুর রহমান এতে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন বলেও জানান একজন।

যুবদলের কেন্দ্রীয় সদস্য বলেন, “এখানে ছাত্রলীগ যুবলীগ ন্যাক্কারজনক ভূমিকা পালন করেছে। স্পষ্ট দেখা গেছে, সবাই ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মী। লাঠিসোঁটা নিয়ে ঘৃণ্য হামলা চালিয়েছে। পুলিশও নীরব ভূমিকা পালন করেছে।”

ওখানে উপস্থিত থাকা একজন জানান, ঢাকা উত্তর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ মিজানুর রহমানের কর্মীরাই এতে হামলা চালিয়েছে। তেজগাঁও থানা ছাত্রলীগের সবাই তার কথায় চলে। হামলাকারীরা সবাই তার অনুসারী। এছাড়া তেজগাঁও থানা ছাত্রলীগের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে গিয়ে অনুসন্ধান চালানো হয়। সে অ্যাকাউন্টের প্রোফাইলে মিজানের ছবি দেয়া আছে। এ হামলার পর একটা পোস্টও দেয়া হয়। সেখানে লেখা হয়, “আমি মনে করি, যারা আজ খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেছে তারা তাদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। আমরা আওয়ামী লীগ যেকোনো সহিংসতা এবং এই ধরনের হামলা সমর্থন করি না। কিন্তু এটাও ঠিক যে, আমরা জনগণের রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।”

এসব বিষয়ে মিজানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগের মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করে তাকেও পাওয়া যায়নি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএ/এফএ

নিউজবাংলাদেশ.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়