News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:১০, ২০ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ০৫:৫৬, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

বেকায়দায় জাপা মহাসচিব!

বেকায়দায় জাপা মহাসচিব!

ঢাকা: জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু আবারও বেকায়দায় পড়েছেন। তার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। নিজ দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থীকে বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালানোর দায়ে দলীয় নেতা কর্মীদের ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। এরশাদও এজন্য বাবলুর প্রতি নাখোশ। শেষ পর্যন্ত মহাসচিবের পদ টিকিয়ে রাখতে পারেন কি না তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। তবে বিষয়টি নিয়ে বাবলু মোটেও চিন্তিত নন বলেই জানান।

গত ১২ এপ্রিল চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আ জ ম নাসিরের প্রচারণায় অংশ নেন বাবলু। দলের চেয়ারম্যানের কাছে এ খবর পৌঁছালে পরদিনই তাকে ডেকে নিয়ে ‘ধমক’ দেন এরশাদ। এ সময় এরশাদ তাকে বলেন, “তুমি তো মহাসচিব থাকার যোগ্য নও।”

জাপার একটি সূত্রে জানা যায়, সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পরে বাবলুকে মহাসচিবের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হতে পারে। এরশাদ তার উপর ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তবে সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দল নিয়ে নতুন কোনো আলোচনার জন্ম দিতে চাননা বলেই এ বিষয়টি এখন চেপে রাখা হয়েছে।

এদিকে এরশাদ ব্লকের এ নেতার প্রতি আগে থেকেই ‘অসন্তুষ্ট’ বিরোধী দলীয় নেতা ও জাপার সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য রওশন এরশাদ। দলীয় ফোরামে ও বাইরে একাধিকবার তিনি বাবলুর সমালোচনা করেছেন। এ ঘটনার পর থেকে বাবলুকে ‘কোণঠাসা’ করা ছাড়াও তাকে মহাসচিবের পদ থেকে বাদ দিতে তৎপরতা চালাচ্ছেন বলেও সূত্র জানায়।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ১২ এপ্রিল রুহুল আমিন হাওলাদারকে সরিয়ে জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুকে মহাসচিবের পদ দেওয়া হয়। এরপর থেকে হাওলাদার রওশনের পক্ষে কাজ করছেন।

সূত্র মতে, এর আগেও বাবলুকে সরিয়ে দিতে একাধিকবার দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে আলোচনা হয়। এরশাদের প্রিয়ভাজন হওয়ায় তাকে সরানো সম্ভব হয়নি। এছাড়া বাবলুর কথায় এরশাদ স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলামকে প্রেসিডিয়াম সদস্যের পদ থেকে বাদ দেন বলেও অভিযোগ উঠিছিলো। সে সময় সংসদ ভবনে রাঙ্গা বাবলুকে মারার জন্য তেড়েও যান।

দলীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বাবলু তার পছন্দের প্রার্থী মুরাদ ইব্রাহিমকে সমর্থন দিতে চেয়েছেন। তবে দল থেকে সোলায়মান শেঠকে সমর্থন দেয়া হয়। বিষয়টি বাবলুর মতবিরুদ্ধ হওয়ায় তিনি সোলায়মান শেঠের পক্ষে প্রচারণায় না নেমে আ.লীগ সমর্থিত আ জ ম নাছিরের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। গত ১২ এপ্রিল চট্টগ্রামের তিনি এ প্রচারণা চালান।

নাছিরের পক্ষ নেয়ার কারণ প্রসঙ্গে আরও জানা যায়, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামে বাবলুর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন নগর আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির। বাবলুর জন্য তখন তিনি বেশ খাটাখাটুনি করেছেন। নির্বাচনের পরে বাবলু জাপার মহাসচিব নির্বাচিত হন। সিটি নির্বাচনে নাছির মেয়র পদে প্রতিন্দ্বন্দ্বিতা করায় বাবলু বিপাকে পড়েছেন। নাছিরকে সমর্থন না করেও উপায় নেই বাবলুর।

বাবলুর এমন আচরণে দলের নেতারা তার বিরুদ্ধে এরশাদকে জানিয়েছেন বলেও খবর পাওয়া যায়। ওদিকে রওশন এরশাদ ব্লকের নেতারা এ বিষয়টিকে ‘ইস্যু’ বানিয়ে বাবলুকে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

নাছিরের প্রচারণায় নামায় বাবলুর বিরুদ্ধে দলের একাধিক নেতা কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, একটি দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে কখনও এমন আচরণ করা যায় না। তিনি দলের মহাসচিব না হয়ে অন্য কেউ হলেও মেনে নেয়া যেতো। কিন্তু মহাসচিবের কাছ থেকে এ বিষয়টি আশা করা যায় না।

বাবলুকে ‘দালাল’ আখ্যায়িত করে একাধিক নেতা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার সখ্যতা ভালো। কিন্তু প্রকাশ্যে দালালি করা উচিত হয়নি। তার এ দালালীর জন্য দলের ক্ষতি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের এক প্রেসিডিয়াম সদস্য নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “বাবলু সাহেব কাজটি ভালো করেননি। প্রকাশ্য প্রচারণায় নামা তার জন্য উচিত হয়নি। তিনি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী সবার বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

পুরো বিষয়টি নিয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি জাপা মহাসচিব। কেবল বলেন, “কতো কিছুই তো হবে। আমি কিছু নিয়ে চিন্তিত নই।” পরে কথা বলবেন বলে তিন এরপর ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দন। তবে সম্প্রতি সাংবাদিকদের জানান, নাছির ১৪ দল সমর্থিত প্রার্থী। জাপাও ১৪ দলের অংশ। সে হিসেবে নাছিরকে সমর্থন দেওয়া তার কর্তব্য।

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় বিরোধী দলীয় নেতা ও জাপার সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য রওশন এরশাদ বলেন, “এ বিষয়ে দলের চেয়ারম্যান সিদ্ধান্ত নেবেন। দলীয় ফোরামে আলোচনা ছাড়া এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না।”

দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “স্যার (এরশাদ) এ বিষয়ে বলতে পারবেন। ঢাকা নিয়েই কাজ করে কূল পাই না, চট্টগ্রামের খবর রাখবো কখন?”

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএ/এজে

নিউজবাংলাদেশ.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়