‘পোলিং অফিসার’ বনে গেলেন ১১ আয়া-মালি-ঝাড়ুদার!
ঢাকা: পোলিং অফিসার হিসেবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে এবার নিয়োগ দেয়া হয়েছে আয়া, সুইপার, মালি, পিয়ন ও ঝাড়ুদারসহ ১১ জনকে। উত্তরের রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে এ দায়িত্ব পেয়ে চতুর্থ শ্রেণীর ওই ১১ কর্মচারী এখন পড়েছেন মহা বিপাকে। তারা সবাই মিরপুর শাহ আলী মহিলা কলেজের অফিস সহায়ক (এমএলএসএস) পদে কর্মরত। দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে রিটার্নিং অফিসার ও ইসি বরাবর আবেদনও করেছেন তারা। তবে এমন কাউকে পোলিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন রিটার্নিং অফিসার।
অব্যাহতির আবেদনে তারা উল্লেখ করেছেন, “আমরা চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী। ইতোপূর্বে কখনো রাষ্ট্রীয় অধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করি নাই। আমরা সামান্য অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন কর্মচারী। নির্বাচনী বুথে ভোটারদের আঙ্গুলিতে কালি লাগানো ছাড়া অন্যান্য কার্য সম্পাদন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না।”
তাদের এ আবেদন বিবেচনায় নিতে সুপারিশ করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ ময়েজ উদ্দিন। তিনি তাতে উল্লেখ করেন, “আবেদনকারীদের অক্ষরজ্ঞান কম। দায়িত্ব পালনে শুধু কালির ব্যবহার ছাড়া অন্য কোনো কাজ করানো কষ্টকর হবে।”
এই ১১ জন হলেন- কবীর হোসেন (সুইপার), একরামুল হক (মালী), সামসুল হক (দারোয়ান), জামাল (নৈশ প্রহরী), মোজাম্মেল হক (দারোয়ান), মো. শুক্কুর আলী (দারোয়ান), মো. শাহজাহান (দারোয়ান), পারুল আক্তার (আয়া), মনোয়ারা বেগম (পিয়ন), রুনা আক্তার (ঝাড়ুদার) ও দেলোয়ারা খাতুন (ঝাড়ুদার)।
ইসির পোলিং অফিসারের নিয়োগপত্রে তাদের নাম উল্লেখ রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর সিটির মিরপুর এলাকার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ৩৮৬, পাইকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে তাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ১৮ এপ্রিল পূর্ব সেনপাড়া মিরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে তাদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনী মালামাল ২৭ এপ্রিল রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে বিতরণ করা হবে।
কলেজের অধ্যক্ষ ময়েজ উদ্দিন বলেন, “ইসি থেকে আমার কাছে পোলিং অফিসারের চাহিদা দেয়া হয়। সে অনুযায়ী আমি আমার প্রতিষ্ঠানের ৬৪ জনের তালিকা পাঠিয়েছি।”
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কলেজটির ১১ জন শিক্ষকের নাম ‘অদৃশ্য কারণে’ পোলিং অফিসারের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তাদের বদলে চতুর্থ শ্রেণীর এই কর্মচারীদের নাম ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “১১ জন শিক্ষক কীভাবে অব্যাহতি পেয়েছেন? সেটা তো আমার কাছেও অবাক লাগে। প্রভাষকও পোলিং অফিসার আবার চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীও পোলিং অফিসার, এটা কেমন বিষয়?”
এদিকে দায়িত্ব পাওয়া ১১ জন তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেতে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় ও ইসিতে ধর্না দিচ্ছেন। রিটার্নিং অফিসার বরাবর করা আবেদনটি ইসিতে কেউ গ্রহণ করছেন না। বিষয়টি নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্বল্প বেতনের এ কর্মচারীরা।
ইসিতে অব্যাহতির আবেদন জমা দিতে আসেন কলেজের দারোয়ান মো. শাহজাহান। তিনি জানান, এতো বড় দায়িত্ব পালন করতে তারা অক্ষম। এ দায়িত্ব পালন করা কোনোভাবেই তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নানা ঝামেলা সৃষ্টি হতে পারে। এতে পরবর্তীতে আরও বড় ধরনের সমস্যায় পড়বেন তারা।
নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া কেউ সরকারি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে সর্বনিম্ন ছয়মাস ও সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
সাধারণত স্কুল কলেজের শিক্ষক ও সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা পোলিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করে থাকে। ভোটকেন্দ্রের প্রতিটি বুথে একজন করে পোলিং অফিসার নিয়োজিত থাকেন। তবে এই ১১ জনকে জোর করে এ দায়িত্বে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে পোলিং অফিসার হিসেবে চতুর্থ শ্রেণীর এসব কর্মচারী নিয়োগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ঢাকা উত্তরের রিটার্নিং অফিসার মো. শাহ আলম। তিনি বলেন, “এমনটি হওয়ার কথা নয়। আমাদের কোনো তালিকায় এমএলএসএসের নাম নেই।”
পরে তিনি বলেন, “আমরা চাইলে যে কাউকে, যে কোনো শ্রেণীর কর্মচারীকে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা বা পোলিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দিতে পারি। তিনি দ্বিতীয় শ্রেণীরও হতে পারেন আবার চতুর্থ শ্রেণীরও হতে পারেন। এতে আইনগত কোনো সমস্যা নেই। তবে এ ধরনের কাউকে এ দায়িত্ব দেয়া হয়নি। তারপরেও যদি এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে তাদেরকে বাদ দেয়া হবে।”
এ বিষয়ে ইসি সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি জানি না। এমন অভিযোগ আমার কাছে এলে আমি অবশ্যই ব্যবস্থা নেবো।”
নিউজবাংলাদেশ.কম/এফএ
নিউজবাংলাদেশ.কম








