প্রকাশনা সংস্থার উপহার বাণিজ্য
কাজে আসছে না বিনামূল্যের বই
খুলনা: বছরের চার মাস পার হতে চলল। ইতোমধ্যে অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম সাময়িক পরীক্ষার তারিখও ঘোষণা করা হয়েছে। অথচ চারমাস পরও খুলনার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের সরকার প্রদত্ত বিনামূল্যের বইয়ের বাইরে নোট, গাইড, মডেল টেস্ট গাইড, টেস্ট পেপারসহ নানা নামের সহযোগী বই কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে। বই না কিনলে শিক্ষার্থীদেরকে মারধর করা হচ্ছে। সম্ভাব্য শাস্তির আশঙ্কায় শিক্ষকরা সরকার নিষিদ্ধ এসব বই বিদ্যালয়ে আনতেও শিক্ষার্থীদের নিষেধ করছেন।
বর্তমান সরকার বছরের প্রথম দিনেই শিশু শ্রেণী থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে বই তুলে দেয়। অথচ সেই বই শিক্ষার্থীর কাজে লাগছে না। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রকাশনীর নোট বই, গাইড বই, মডেল টেস্ট নানা নামের নানান বই কিনতে বাধ্য করছেন। শিক্ষার্থীরাও কিনতে বাধ্য হচ্ছে। কারণ বই প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের তাদের প্রকাশিত বিভিন্ন শ্রেণীর গাইড বই সৌজন্য সংখ্যা হিসেবে প্রদান করছেন। প্রকাশনা সংস্থাগুলোর এই উপহার বাণিজ্যের কাছে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন। কারণ ওইসব প্রকাশনা সংস্থার বই শিক্ষার্থীদের কিনতে বাধ্য করার ক্ষেত্রে ওই বই থেকেই শ্রেণীতে পড়া দেয়া হয়। পরদিন শ্রেণী কক্ষে ওই পড়া দিতে ছেলে মেয়েরা ব্যর্থ হচ্ছে। আর এ কারণে শ্রেণীতে পড়া দিতে হলে নোট, গাইড, টেস্ট পেপার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন অভিভাবকরা। মজার ব্যাপার হচ্ছে শিক্ষকরা প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিতে শিক্ষার্থীদেরকে বলে দিচ্ছেন যে নোট, গাইড, টেস্ট পেপার বিদ্যালয়ে আনতে পারবে না। একদিকে বই না কিনলে পিটুনি, আবার বই স্কুলে নিয়ে এলেও পিটুনি।
লেকচার পাবলিকেশন্স, কাজল ব্রাদার্স লিমিটেডের অনুপম সিরিজ, পাঞ্জেরী, পপি গাইড, প্রজাপতি, একের ভেতর সব, আশার আলো, ক্যাপ্টেন, অক্সফোর্ড ইংলিশ, পুঁথি নিলয়, জুপিটার, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন নামের নোট বই বাজারে বিক্রি হচ্ছে।
শোভনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জনৈক শিক্ষার্থীর বাবা সুরেন্দ্র কুমার মন্ডল বলেন, ছেলেটি চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে। তাকে কয়েকদিন আগে সাড়ে ৪শ’ টাকা দিয়ে একটি গাইড বই কিনে দিয়েছি। আবার মডেল টেস্ট নামে আরেকটি কেনার জন্য স্কুল থেকে বলা হয়েছে। কিন্তু নতুন করে আবার বই কেনার টাকা জোগাড় করতে পারছি না।
শিক্ষার্থীদের এসব বই কেনানোর বিষয়ে একাধিক শিক্ষক বলেছেন, বইতে আনসিন ক্যাটাগরী (যোগ্যতা ভিত্তিক) কোন প্রশ্ন দেয়া থাকে না, কিন্তু টেস্ট পেপার বা গাইড বইতে নমুনা প্রশ্ন দেয়া থাকে। তাই নির্ধারিত বইয়ের বাইরে বই কেনানো ছাড়া উপায় থাকে না।
এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. অহিদুল ইসলামের সেলফোনে বক্তব্য নিতে বার বার কল করেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এমনকি তার অফিসের ল্যান্ড ফোনে কল করলেও জনৈক কর্মচারী বলেন, স্যার কারও সাথে ফোনে কথা বলেন না।
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সামছুদ্দৌজা বলেন, বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা এমন অভিযোগ জানিয়েছেন। সে পরিপ্র্রেক্ষিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে কোনো অবস্থাতেই বাজারের বই কেনা যাবে না। এমন হয়ে থাকলে সে সকল বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মহা. ফজলে রহমান বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সরকার প্রদত্ত বই ছাড়া অন্য কোনো বই পড়ানোর সুযোগ নেই। খোঁজ নিয়ে যদি জানা যায় যে তা করা হচ্ছে তবে যারা এ কাজ করছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসএইচ/এফই
নিউজবাংলাদেশ.কম








