লাশ দাফনে জেলা প্রশাসন প্রস্তুত, মুক্তিযোদ্ধাদের ‘না’
শেরপুর: যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য প্রস্তুত শেরপুর জেলা প্রশাসন। তবে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল যুদ্ধাপরাধীর লাশ শেরপুরের মাটিতে কবর না দেওয়ার দাবিতে অনড় রয়েছেন।
জেলার সর্বত্র মানুষের মধ্যে একটাই প্রশ্ন, কামারুজ্জামানের ফাঁসি হচ্ছে কি না, হলে কখন হচ্ছে? এ নিয়ে জেলা শহরে এবং কামারুজ্জামানের গ্রামের বাড়ি বাজিতখিলায় মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। সবার দৃষ্টি এখন টিভি পর্দায় নিবদ্ধ।
এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার বিকেলে শেরপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাকীর হোসেনের সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি কামারুজ্জামানের লাশ দাফনে জেলা প্রশাসন প্রস্তুত বলে জানান।
তিনি বলেন, “মানবতা বিরোধী অপরাধ মামলায় সাজা কার্যকরের যে বিষয়টি আছে, তাতে কোনো অবস্থাতেই যেন আইনশৃংখলার অবনতি ঘটতে না পারে, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলায় পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন রয়েছে এবং দুপ্লাটুন বিজিবিও টহল দেবে।”
এছাড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাখতে জেলা কোর কমিটি এবং আইনশৃংখলা কমিটির সভা হয়েছে। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করার পাশপাশি স্থানীয় মন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, হুইপ আতিউর রহমান আতিক এবং অন্য জনপ্রতিনিধিদের সাথে পরামর্শ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে জেলার সার্বিক আইনশৃংখলা রক্ষায় সব সময় প্রস্তুত আছে বলে তিনি জানান।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মুহিবুল ইসলাম খান জানান, “কামারুজ্জামানের ফাঁসি পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু নিরাপত্তার স্বার্থে তা এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না।”
এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ, উৎকণ্ঠা, কখন ফাঁসি হচ্ছে, আদৌ হচ্ছে কি না, এ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনার মধ্য দিয়ে শেরপুবাসী সময় পার করছে। ফুটপাতের টং দোকান থেকে শুরু করে অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, দিনমজুর, রাজনীতিক, ব্যবসায়ী সবার মধ্যে একটাই কৌতূহল কামারুজ্জামানের আসলেই ফাঁসি হচ্ছে কি না।
অন্যদিকে কামারুজ্জামানের লাশ শেরপুরের মাটিতে ঢুকতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরল ইসলাম হিরু। তিনি ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।
কামারুজ্জামানের পরিবারের পক্ষ থেকে তার ভাই কফিল উদ্দিন জানান, “আমরা সুষ্ঠুভাবে লাশ দাফন করার জন্য পরিবারের পক্ষে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছি। আমাদের দাবি ও তার ইচ্ছে অনুযায়ী, তারই প্রতিষ্ঠিত কুমড়ি বাজিতখিলা এতিমখানার পাশেই যেন লাশ কবর দিতে পারি।”
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কামারুজ্জামানের লাশ শেরপুরে দাফন যাতে না হয়, সে ব্যাপারে শেরপুরের ডিসি ও এসপির কাছে নির্দেশনা এসেছে এ রকম একটি খবরে তোলপাড় চলছে শেরপুরের সব মহলে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাকীর হোসেন জানান, “এ ধরনের কোনো চিঠি, নির্দেশ বা আদেশ আমরা কেউ পাইনি।”
তবে তিনি জেলার মুক্তিযোদ্ধাদের স্মারকলিপি প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে বলেন, “বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এখন পর্যন্ত কোনো উত্তর পাইনি।”
নিউজবাংলাদেশ.কম/কেজেএইচ
নিউজবাংলাদেশ.কম








