News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৮:৩৬, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

সাড়ে তিন বছরের পদ্মা সেতুর আয় ২৯৩৬ কোটি টাকা

সাড়ে তিন বছরের পদ্মা সেতুর আয় ২৯৩৬ কোটি টাকা

ফাইল ছবি

প্রমত্তা পদ্মার বুকে বাংলাদেশের সক্ষমতার প্রতীক পদ্মা বহুমুখী সেতু গত সাড়ে তিন বছরে টোল আদায়ের ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। ২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধনের পর থেকে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সেতুটি থেকে মোট দুই হাজার ৯৩৬ কোটি ১৫ লাখ ৭৮ হাজার ১৫০ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। 

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত এই সেতু দিয়ে গত ৪২ মাসে দুই কোটি ২৯ লাখ ২২ হাজার ৬৭৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। তবে টোল আদায়ে এই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও প্রকল্পের বিশাল অংকের দীর্ঘমেয়াদী ঋণের কিস্তি পরিশোধ এখন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) এই হালনাগাদ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পদ্মা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ নিলয়।

প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বশেষ ছয় মাসেই মাওয়া ও জাজিরা প্রান্ত মিলে ৪২৫ কোটি ৭৩ লাখ ২৩ হাজার ৯০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে। 

সেতু চালুর প্রথম বছরে আদায়ের পরিমাণ ছিল ৭৯৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা, যা দ্বিতীয় বছরে বেড়ে দাঁড়ায় ৮৫০ কোটি ৪৩ লাখ টাকায়। তৃতীয় বছরে এই আয়ের ধারা আরও বৃদ্ধি পেয়ে ৮৫৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকায় উন্নীত হয়। বিশেষ করে ২০২৫ সালের জুন মাসে ঈদুল আজহার সময় টোল আদায়ের ক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়। 

আরও পড়ুন: গভীর রাতে ঠাকুরগাঁওয়ে সত্যপীরের মাজার ও কবর ভাঙচুর

৫ জুন একদিনেই সেতু দিয়ে সর্বোচ্চ ৫২ হাজার ৪৮৭টি যানবাহন পারাপার হয়, যা থেকে আয় আসে ৫ কোটি ৪৩ লাখ ২৮ হাজার টাকা। এটি এখন পর্যন্ত পদ্মা সেতুর ইতিহাসে একদিনে সর্বোচ্চ টোল আদায়ের রেকর্ড।

প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে সেতুতে পূর্ণাঙ্গভাবে যুক্ত হয়েছে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন সিস্টেম বা ইটিসিএস। এর ফলে এখন ক্রেডিট এবং ইটিসিএস উভয় পদ্ধতিতেই টোল পরিশোধ করতে পারছেন চালকরা। তবে আয়ের এই বিশাল অংকের বিপরীতে রয়েছে ঋণের দায়বদ্ধতা। 

পদ্মা সেতু নির্মাণে ব্যয় সংকোচন নীতির পর চূড়ান্ত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৭৭০ কোটি ১৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে অর্থ বিভাগ থেকে ২৯ হাজার ৮৯৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ঋণ হিসেবে নিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ। চুক্তি অনুযায়ী ১ শতাংশ সুদসহ ৩৫ বছরে মোট ১৪০টি কিস্তিতে এই ঋণের টাকা সরকারকে ফেরত দিতে হবে। 

২০২২-২৩ অর্থবছর থেকেই এই ঋণ পরিশোধের কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা ২০৫৬-৫৭ অর্থবছর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, শীতে পদ্মা কখনো শান্ত থাকলেও সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহনের প্রবাহ এবং টোল আয় দিন দিন বাড়ছে। যাতায়াত নির্বিঘ্ন হওয়ায় দূরপাল্লার পরিবহনগুলোর সংখ্যাও ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও আয়ের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী, তবুও প্রতি অর্থবছরে চারটি করে কিস্তি পরিশোধের যে শিডিউল রয়েছে, তা বজায় রাখাই এখন কর্তৃপক্ষের মূল লক্ষ্য। পদ্মা নদীর স্রোতস্বিনী রূপের মতো এই সেতুর রাজস্ব আয়ও দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়