News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:৪৯, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

গভীর রাতে ঠাকুরগাঁওয়ে সত্যপীরের মাজার ও কবর ভাঙচুর

গভীর রাতে ঠাকুরগাঁওয়ে সত্যপীরের মাজার ও কবর ভাঙচুর

ছবি: সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত শত বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী ‘হজরত বাবা শাহ সত্যপীর’-এর মাজার ও কবরস্থানে গভীর রাতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা মাজারের গ্রিল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং অন্তত তিনটি কবর ভাঙচুর করে। 

তবে মাজারের মূল অংশ এবং দানবাক্স অক্ষত থাকায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের ধারণা, এটি সাধারণ চুরি নয় বরং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ভোরবেলা স্থানীয় মুসল্লিরা মাজার সংলগ্ন মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করতে গিয়ে ভাঙচুর করা মাজার ও কবরগুলো দেখতে পান। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা এই তাণ্ডব চালায়। বিজিবি ঠাকুরগাঁও সেক্টরের সদর দপ্তরের সামনে অবস্থিত এই মাজারটি প্রায় শতাধিক বছরের পুরোনো। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাজারের প্রধান ঘরের দরজা ও জানালা ভাঙার পাশাপাশি পাশের গোরস্থানে থাকা আরও তিনটি কবর ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।

ঘটনার জানাজানি হওয়ার পর থেকে মাজারের ভক্ত ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। 

মাজার কমিটির সভাপতি এনামুল হক বলেন, বছরের পর বছর শত শত ভক্ত এখানে আসেন। এখানে কখনও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো বা কোনো অনৈতিক ও শিরক কার্যক্রম হয় না। গান-বাজনাও হয় না। এরপরও কেন এই হামলা, তা আমাদের বোধগম্য নয়।

আরও পড়ুন:কেরানীগঞ্জে মাদরাসায় বিস্ফোরণের রহস্য উদ্ধার

শাহ সত্যপীর মসজিদ ও গোরস্থান কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আজিজুল ইসলাম বাবুল বলেন, আমরা নামাজে এসে এই ধ্বংসযজ্ঞ দেখি। আমরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। 

স্থানীয়দের অনেকের ধারণা, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে কোনো একটি চক্র সুপরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে।

খবর পেয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। 

পরিদর্শন শেষে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাইরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, মাজারের দানবাক্স থেকে কোনো অর্থ বা মালামাল চুরি হয়নি। তাই প্রাথমিকভাবে একে চুরির ঘটনা মনে হচ্ছে না। আমাদের ধারণা, ধর্মীয় উগ্রপন্থিদের ইন্ধনে এলাকা অস্থিতিশীল করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাদ হোসেন জানান, পুলিশের একাধিক টিম ও ডিবি তদন্ত শুরু করেছে। মাজার কর্তৃপক্ষ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দোষীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বর্তমানে মাজার এলাকায় পুলিশি পাহারা জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়