News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:৪৩, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

কেরানীগঞ্জে মাদরাসায় বিস্ফোরণের রহস্য উদ্ধার

কেরানীগঞ্জে মাদরাসায় বিস্ফোরণের রহস্য উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকার উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার একতলা ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নারী ও শিশুসহ চারজন আহত হন। 

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে বিস্ফোরণের এ ঘটনা ঘটে।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেলে জানান, বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে পুলিশি তল্লাশি চালিয়ে কেমিক্যাল, ককটেল ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

আহতরা হলেন মাদরাসার পরিচালক শেখ আল আমিন (৩২), তার স্ত্রী আছিয়া বেগম (২৮) এবং তাদের তিন সন্তানের মধ্যে দুই ছেলে উমায়েত হোসেন (১০) ও মো. আব্দুল্লাহ (৭)। আহতদের প্রথমে স্থানীয় আদ-দ্বীন হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদরাসার পরিচালনা দায়িত্বে ছিলেন আল আমিন ও তার স্ত্রী আছিয়া। তারা ২০২২ সাল থেকে বিল্ডিংটি ভাড়া নিয়ে মাদরাসা পরিচালনা করছিলেন। চার কক্ষের মধ্যে দুটি কক্ষ শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য মাদরাসা হিসেবে ব্যবহার হতো, একটি ছিল বসার কক্ষ, আরেকটিতে পরিবার বসবাস করতো।

বিস্ফোরণের কারণে মাদরাসার একতলা ভবনের দুটি কক্ষের দেয়াল বিধ্বস্ত হয়েছে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক পরিদর্শন থেকে জানা গেছে, ভবনের ভেতরে বেশ কিছু রাসায়নিক দ্রব্য ও চারটি ককটেল সদৃশ বস্তু মজুত ছিল। পুলিশি তল্লাশিতে ল্যাপটপ, মনিটর, ড্রামের মধ্যে লিকুইড রাসায়নিক এবং বিস্ফোরক জাতীয় কিছু পদার্থ উদ্ধার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: সেন্ট মার্টিনগামী জাহাজে আগুনে নিহত ১, জীবিত উদ্ধার ১৫

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, আল আমিন বর্তমানে পলাতক। তবে তার স্ত্রী আছিয়া, আছিয়ার বড় ভাইয়ের স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার এবং আসমানি খাতুনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আল আমিনের নামে ঢাকার আশেপাশে কয়েকটি মামলা রয়েছে। তিনি দুইবার গ্রেফতার হয়ে জেলেও ছিলেন। ২০২৩ সালে জামিনে মুক্তি পেয়ে অটোরিকশা চালিয়েছেন এবং বর্তমানে উবার চালাতেন।

মিজানুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভবনের ভিতরে রাখা রাসায়নিক দ্রব্য অথবা উদ্ধারকৃত বিস্ফোরক জাতীয় বস্তুগুলোর কোনো একটির রাসায়নিক প্রতিক্রিয়ার ফলে বিস্ফোরণ ঘটেছে। এখনও এটি কোনো নাশকতার অংশ ছিল কি না তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তদন্ত চলছে এবং মামলা রেকর্ডের পর অন্যান্য সংস্থা থেকে প্রতিবেদন সংগ্রহ করে বিস্তারিত জানানো হবে।

হাসনাবাদ এলাকার বাসিন্দা আলী আহসান ও জহির আহমেদ জানিয়েছেন, মাদরাসার কিছু কক্ষে কার্যক্রম চলত এবং বিস্ফোরণের দিন মাদরাসা বন্ধ থাকলেও, ভবনের ভিতরে বোমা তৈরির কাজ চলছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। মাদরাসায় প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করত। স্থানীয়রা বিস্ফোরণের সময় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং ভবনের পাশে থাকা অন্যান্য ভবনে কিছু ক্ষতি হয়।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। পুলিশের একাধিক টিম বিস্ফোরণের রহস্য উদঘাটন ও সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতারের জন্য কাজ করছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়