সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ‘ইউয়ান জিং হি’
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানি জোরদার করেছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় সিঙ্গাপুর থেকে ২৭ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে ‘এমটি ইউয়ান জিং হে’ নামের একটি জাহাজ।
শুক্রবার (০৩ এপ্রিল) বেলা ২টার দিকে জাহাজটি বন্দরের ডলফিন জেটিতে নোঙর করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে তেল খালাস কার্যক্রম শুরু হয়।
বিপিসি জানিয়েছে, এপ্রিলে দেশের মোট ডিজেলের চাহিদা প্রায় চার লাখ টন। এ মাসে আরও সোয়া তিন লাখ টন ডিজেল আমদানি করা হবে। ইতোমধ্যে ১ লাখ ৬৫-৬৮ হাজার টন ডিজেল আগমনের নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে, এবং প্রায় দেড় লাখ টনের মতো মজুত রয়েছে।
বিপিসি সূত্রের মতে, নিয়মিত সরবরাহকারী চীনের কোম্পানি ইউনিপ্যাক সিঙ্গাপুর থেকে ৩০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে আরও একটি জাহাজ আউটপুটের পথে রয়েছে, যা আগামীকাল শনিবার বা রোববার দেশের বন্দরে পৌঁছাবে। প্রতি মাসে ১৫-১৬টি জাহাজ দেশের উদ্দেশ্যে আসে, যদিও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে কিছু আমদানির সূচি বিলম্বিত হয়েছে।
বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, আমদানি সূচি অনুযায়ী জাহাজ পৌঁছাচ্ছে, তাই এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের সংকট হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
আরও পড়ুন: এবার বিকল্প পথে সৌদি থেকে ১ লাখ টন তেল আসছে বাংলাদেশে
একই সঙ্গে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, মালয়েশিয়া থেকে ডিজেলবাহী আরও একটি জাহাজ বন্দরের কাছে অবস্থান করছে। এটি গত ২৯ মার্চ মালয়েশিয়া থেকে রওনা হয়েছে এবং শীঘ্রই বন্দরে পৌঁছাবে। এছাড়া, এলএনজি এবং এলপিজি বহনকারী আরও দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় প্রবেশ করেছে। এসব জাহাজ শনিবার (০৪ এপ্রিল) নাগাদ বন্দরে পৌঁছাতে পারে।
বিপিসির সহকারী ব্যবস্থাপক ফারজিন হাসান মৌমিতা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর দেশে ডিজেল আমদানি অব্যাহত রাখতে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিকল্প উৎস থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল আমদানি করা হচ্ছে। বিপিসি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে জি-টু-জি চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সংগ্রহ করছে।
চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়াত হামিম জানান, বর্তমানে দেশে প্রবেশকারী প্রধান জাহাজগুলো হল ‘ইউয়ান জিং হি’ (সিঙ্গাপুর থেকে ২৭,৩০০ মেট্রিক টন ডিজেল), ‘শান গ্যাং ফা জিয়ান’ (মালয়েশিয়া থেকে ৩৪,০০০ টন ডিজেল, শুক্রবার রাত নাগাদ পৌঁছানোর কথা), এবং ‘গ্যাস জার্নি’ (চীন থেকে এলপিজি বহনকারী, শনিবার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে)।
বিপিসি ও বন্দর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন যে, দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এইসব জাহাজ কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকট সত্ত্বেও দেশে তেলের অভাব দেখা দেবে না।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








