বিল পাসকে ঘিরে সংসদে উত্তেজনা, বিরোধী দলের ওয়াকআউট
ছবি: সংগৃহীত
সরকারি দলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সমঝোতা ও বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগ এনে জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে আবারও ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলীয় সদস্যরা।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন চলাকালে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ পাসের প্রতিবাদে এই ঘোষণা দেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এ নিয়ে চলতি সংসদে চতুর্থবারের মতো ওয়াকআউট করল বিরোধী দল।
ছুটির দিন শুক্রবারে দুই সেশনে চলমান অধিবেশনে ২০টি বিল পাসের প্রক্রিয়ায় উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। বিতর্কের মূল কেন্দ্রে ছিল ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল’। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা মূল অধ্যাদেশটি হুবহু পাসের জন্য সংসদীয় বিশেষ কমিটি সুপারিশ করলেও সংসদ সদস্য আনিসুর রহমানের আনা তিনটি বিতর্কিত সংশোধনীসহ বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। এসব সংশোধনীর মাধ্যমে জাদুঘর পর্ষদে সরকারের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। সংশোধিত আইনে পর্ষদ সভাপতি হিসেবে প্রথিতযশা বিশেষজ্ঞের পরিবর্তে সংস্কৃতিমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীকে দায়িত্ব দেওয়া এবং জনস্বার্থে সরকার যেকোনো সময় যেকোনো সদস্যের মনোনয়ন বাতিলের ক্ষমতা যুক্ত করা হয়েছে। একইসাথে সভাপতির তিন বছর মেয়াদী পদের বাধ্যবাধকতাও তুলে দেওয়া হয়েছে।
বিলটি পাসের পর বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, সংশোধনী আনার মাধ্যমে সরকারি দল রাজনৈতিক সমঝোতা ভঙ্গ করেছে। তিনি বিষয়টিকে ‘দিনে-দুপুরে ছলচাতুরি’ হিসেবে অভিহিত করেন।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী তালিকায় জামায়াতের নাম বহাল, সংসদে বিল পাস
জবাবে সরকারি দল থেকে দাবি করা হয়, সংশোধনীটি একজন বেসরকারি সদস্য এনেছেন এবং প্রয়োজনে ভবিষ্যতে এটি পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। তবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার এই পর্যায়ে আপত্তি জানানোর সুযোগ নেই এবং বিরোধী দলের উচিত ছিল আগেই সংশোধনী প্রস্তাব দেওয়া।
ওয়াকআউটের আগে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন বিল’ পাসের সময় নথিপত্র হাতে না পাওয়ায় স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী তিন দিন আগে নথিপত্র দেওয়ার কথা থাকলেও বিল পাসের সময় মাত্র টেবিলে তা রাখা হয়েছে।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমরা তো অর্থনীতির ছাত্র নই, তাই এত দ্রুত এগুলো বুঝে ওঠা সম্ভব নয়। না বুঝে ‘হ্যাঁ’ বলা যেমন অপরাধ, না বুঝে ‘না’ বলাও অপরাধ। এই অপরাধবোধ থেকেই আমরা চুপ থেকেছি।
তিনি বিদ্রূপাত্মক স্বরে আরও যোগ করেন, সরকারি দলের সদস্যরা হয়তো অত্যন্ত মেধাবী বলে দেখামাত্রই সব বুঝে ফেলেছেন, কিন্তু বিরোধী দলের পক্ষে তা সম্ভব হয়নি।
বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদীয় বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন এবং সেখানে অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে পাসের বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ফলে বিল পাসের পর ‘কিছু বুঝলাম না’ বলা সাজে না।
এই বিতর্কের এক পর্যায়ে শফিকুর রহমান বলেন, আজকে আমরা দুঃখ নিয়ে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করছি। ভবিষ্যতে আবার দেখা হবে।
এই ঘোষণার পর সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল’ পাসের পর বাকি ১৬টি বিল সংসদে উত্থাপন না করার বিষয়টিকেও বিরোধী দল তাদের প্রতিবাদের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








