কড়া নিরাপত্তায় বিমানবন্দর থেকে গণসংবর্ধনার পথে তারেক রহমান
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগের নির্বাসিত জীবন শেষে সপরিবারে দেশের মাটিতে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে তাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
এর আগে একই ফ্লাইট সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা যাত্রাবিরতির পর বেলা ১১টা ১০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে ফ্লাইটটি ছেড়ে আসে।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৩৬ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ৩৬ মিনিটে) লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানে করে ঢাকা অভিমুখে যাত্রা করেন তারেক রহমান। তার সঙ্গে একই বিমানে দেশে ফেরেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। তারা বিজি-২০২ ফ্লাইটে যাত্রা করেন।
ঢাকায় পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তারেক রহমানকে স্বাগত জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন এবং ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
ইমিগ্রেশনসহ আনুষ্ঠানিকতা শেষে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান আলাদা একটি গাড়িতে করে গুলশানের বাসার উদ্দেশে রওনা হন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের দেওয়া সংবর্ধনা গ্রহণের পর দুপুর ১২টা ৩৬ মিনিটে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন তারেক রহমান। বাসে ওঠার আগে তিনি জুতা খুলে মাটিতে পা রাখেন এবং হাতে এক মুঠো মাটি নেন—যা উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
আরও পড়ুন: বিমানবন্দরে তারেক রহমানকে স্বাগত জানালেন বিএনপি নেতাকর্মীরা
বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে লাল-সবুজ রঙের বিশেষ বুলেটপ্রুফ বাসে করে তারেক রহমান রাজধানীর পূর্বাচলের দিকে রওনা হন। বাসটির গায়ে লেখা রয়েছে—‘সবার আগে বাংলাদেশ’। একই বাসে তার সঙ্গে রয়েছেন বিএনপি মহাসচিবসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।
বাসটিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের প্রতিকৃতি সংযুক্ত রয়েছে।
এই বাসটি ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে—যা ৩০০ ফিট সড়ক নামেও পরিচিত—অতিক্রম করে গণসংবর্ধনার সমাবেশস্থলের দিকে এগোচ্ছে। পথে তিনি একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষ্যে রাজধানীর পূর্বাচলের ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে এলাকায় বিশাল গণসংবর্ধনার আয়োজন করেছে বিএনপি। কুড়িল মোড়সংলগ্ন সড়কের উত্তর পাশে দক্ষিণমুখী করে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে নির্মিত হয়েছে ৪৮ ফুট বাই ৩৬ ফুটের একটি মঞ্চ।
সমাবেশস্থল ও পুরো সড়কজুড়ে অবস্থান নিয়েছেন লাখো মানুষ। বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও জাতীয় পতাকা হাতে বাসটিকে হাত নেড়ে স্বাগত জানান।
বাংলাদেশের আকাশসীমায় প্রবেশের পর সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি লেখেন, ‘দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর বাংলাদেশের আকাশে।’
সিলেটে পৌঁছে আরেকটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘অবশেষে সিলেটে, বাংলাদেশের মাটিতে!’
পূর্বাচলের গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে তারেক রহমান তার মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন। সেখান থেকে পরে তিনি গুলশানের বাসায় ফিরবেন।
২০০৭ সালের জানুয়ারিতে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতির মামলায় আটক হয়ে প্রায় ১৮ মাস কারাবন্দি ছিলেন তারেক রহমান। ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাওয়ার পর চিকিৎসার জন্য ১১ সেপ্টেম্বর সপরিবারে লন্ডনে যান তিনি। সে বছরের ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশে ফেরা আর সম্ভব হয়নি। একের পর এক মামলার জটে দীর্ঘ সময় প্রবাসেই থাকতে হয় তাকে।
অবশেষে দীর্ঘ সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








