News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৯:৪৭, ১৪ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ০৩:৩৭, ১৯ জানুয়ারি ২০২০

‘অ্যালার্ট জারির আইনগত এখতিয়ার ইন্টারপোলের নেই’

‘অ্যালার্ট জারির আইনগত এখতিয়ার ইন্টারপোলের নেই’

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নামে ইন্টারপোল রেড নোটিস জারি করতে পারে না বলে মনে করছেন বিএনপি নেতারা। তাদের মতে এটা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ।

মঙ্গলবার দেশের প্রায় সব শীর্ষ অনলাইন মিডিয়ায় এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর নিউজবাংলাদেশের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে। তাদের মতে, এ ধরনের কোনও নোটিস জারি করার আইনগত এখতিয়ার ইন্টারপোলের নেই। তারা কোন কোন বিষয়ে রেড নোটিস জারি করতে পারবে এ ব্যাপারে একটি নির্দেশনা দেওয়া আছে। সে অনুযায়ী তারা এ ধরনের রেড নোটিস জারি করতে পারে না।

এছাড়া তারেকের নামে ইন্টারপোল থেকে আদৌ কোনো নোটিস জারি করা হয়েছে কি না- তাও নিশ্চিত নয়, বলে দাবি করেছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা।

তবে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন- ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা গেছে, তারেকের বিরুদ্ধে ঠিকই রেড নোটিস জারি হয়েছে। তবে ওই নোটিসে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। ওই নোটিসে ‘চার্জ’ অর্থাৎ অভিযোগ কলামে উল্লেখ করা হয়েছে, “হি ইজ আন্ডার দ্য চার্জ অব মার্ডার অ্যান্ড এক্সপ্লোশন অব হ্যান্ড গ্রেনেড ইন দি আওয়ামী লীগ মিটিং।”

যোগাযোগ করা হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. মাহবুবুর রহমান নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “তারেক রহমান জাতীয় নেতা। তিনি এমন কোনও অপরাধী নন যে ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে রেড নোটিস জারি করবে। বিষয়টি আইনজীবীরা ভালো বলতে পারবেন। তবে আমি মনে করি, এটা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে এমনটা করা হতে পারে।”

দলের প্রচার সম্পাদক ও সাবেক হুইপ জয়নাল আবদিন ফারুক বলেন, “যতই ষড়যন্ত্র করা হোক না কেন তারেক রহমানের কিছুই হবে না। তিনি এখন বিদেশে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি সময় মতো দেশে ফিরে আসবেন এবং বাংলাদেশের জনগণের নেতৃত্ব দেবেন।”

তবে খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও দলের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ঢাকা বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার বলেন, “আইনগতভাবে ইন্টারপোল এই রেড নোটিস জারি করার এখতিয়ার রাখে না। তারেক রহমান এমন কোনও বড় অপরাধী নন যে তার বিরুদ্ধে রেড নোটিস জারি করতে হবে।”

উল্লেখ্য, গত ছয় বছর ধরে পরিবার নিয়ে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক। এরইমধ্যে বাংলাদেশি পাসপোর্ট বৈধতার সময় পেরিয়ে গেছে তার। তিনি এখন ‘শরণার্থী’ হিসেবে দেশটিতে অবস্থান করছেন বলে কথা উঠেছে। সেই ‘শরনার্থী’ তারেকের বিরুদ্ধে এবার রেড নোটিস জারি করেছে ইন্টারপোল। ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড মামলায় অভিযুক্ত তারেক রহমানকে ‘ওয়ান্টেড’ ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় ২২ জন নিহত হন। আহত হন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ঢাকার সাবেক মেয়র হানিফসহ কয়েক শ লোক আহত হন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০০৮ সালের ১১ জুন ২২ জনকে আসামি করে সিআইডি প্রথম অভিযোগপত্র দেয়। পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মামলার অধিকতর তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সূত্রে ২০১১ সালের ৩ জুলাই তারেক রহমানসহ আরও ৩০ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। অভিযুক্ত মোট ৫২ আসামির মধ্যে তারেক রহমানসহ ১৯ জন পলাতক আছেন। আসামিদের তালিকায় আরও আছেন জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু, হুজি নেতা মুফতি আবদুল হান্নান প্রমুখ।

নিউজবাংলাদেশ.কম/একে

নিউজবাংলাদেশ.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়