News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:২৮, ২১ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ০৬:৩৪, ১৯ জানুয়ারি ২০২০

আবারও প্রশ্নবিদ্ধ পুলিশের ভূমিকা

আবারও প্রশ্নবিদ্ধ পুলিশের ভূমিকা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্ব পালন এবং প্রয়োজনের সময় নীরব ভূমিকা নিয়ে আবারও জনমনে প্রশ্ন জন্ম দিয়েছে। পহেলা বৈশাখে টিএসসি এলাকায় যৌন নিপীড়নের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। এর দায় এড়াতে পারে না পুলিশ প্রশাসন।

এর আগে আমরা দেখেছি, প্রকাশ্যে অভিজিৎ হত্যার সময় পুলিশ পাশেই দাঁড়িয়ে থেকে নীরব ভূমিকা পালন করেছে। পহেলা বৈশাখে প্রায় একই জায়গায় নারীর ওপর আক্রমনও প্রত্যক্ষ করেছে এই পুলিশ বাহিনী। সিসি টিভি ক্যামেরা ব্যবহার নিয়ে প্রথমদিকে ধুম্রজাল সৃষ্টি হলেও ওই ক্যামেরার বদৌলতেই চিহ্নিত করা যাচ্ছে প্রকৃত ঘটনায় কে কে জড়িত।

সহযোগিতা চাওয়ার পরও পুলিশ এগিয়ে আসেনি, এমন অভিযোগ অনেকেই করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ঘটনা অন্যদিকে নেওয়ার জন্য নানা তালবাহানা করছে। এ নিয়ে অনেক কথাই তারা বলতে চেয়েছেন। কিন্তু থলে থেকে বিড়াল বের হতে শুরু করেছে। ফেসবুক, অনলাইন সংবাদ এবং অন্যান্য জাতীয় দৈনিক সংবাদ মাধ্যমে একের পর এক প্রকাশিত হতে শুরু করেছে অপরাধীদের ছবি, নাম ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম।  বিশ্ববিদ্যালয় এবং আইন প্রয়াগকারী প্রশাসন কেন নারীদের রক্ষায় কোনো ধরনের ভূমিকা  পালন করেনি তাও এখন পরিষ্কার।

এর আগেও দায়িত্বহীন প্রশাসনের কারণে কার্জন হল এলাকায় পুকুর ঘাটে এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই নারী শিক্ষার্থী লাঞ্ছিত হয়েছেন। সেই অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরের কথা, উল্টো লাঞ্ছিত শিক্ষার্থীকে নানা ধরনের বঞ্চনার স্বীকার হতে হয়েছে।
প্রায় ২ কোটি জনসংখ্যার এই ঢাকায় বিনোদন বা একটু আনন্দ করার জায়গা আছেই বা কোথায়? যে কোনো ছুটি পার্বণ এলেই এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ছাড়া আর যাবেন কোথায়? ছেলে-মেয়ে-স্ত্রী-সন্তান নিয়ে একটু বেড়ানোর জন্য, কিছুটা সময় কাটানোর জন্য সকলের নির্ভরতা এই এলাকাকেই কেন্দ্র করে। ঢাকা শহরের মানুষের একমাত্র একটু বেড়ানোর জায়গায় যখন এমন অপরাধ নির্বিঘ্নে ঘটে যায়, চিৎকার করেও সহযোগিতা পাওয়া যায় না, তখন এই এলাকায় আর কেউ কি আসার সাহস করবে?

পহেলা বৈশাখের মতো কলংকিত ঘটনা একের পর এক ঘটতে থাকলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি অবহেলিত এবং অরক্ষিত এলাকা হিসাবে চিহ্নিত হতে আর বেশি সময় লাগবে না। চিহ্নিত ছবি এবং নামধারী সংগঠনের এই অপরাধীরা যদি কোনোভাবে ছাড় পেয়ে যায়, তবে তা হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং বর্তমান সরকারের জন্য চরম ব্যর্থতা, যার মূল্য হয়তো পরিশোধ শুরু হয়ে যাবে এই সময়ের সিটি করপোরেশন নির্বাচন থেকেই।  

আইনশৃংখলা রক্ষায় নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বারবার সতর্কবাণীর পরও তাদের উদাসীনতায় সাধারণ নাগরিক অসহায় বোধ করছে।

এ অবস্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব একটি নিরাপত্তা বাহিনী বা স্বেচ্ছাসেবক প্লাটফর্ম গঠন করা যেতে পারে। প্রতিটি অনুষ্ঠানের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পুলিশের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেদের ব্যবস্থাপনা সক্রিয় করতে উদ্যোগী হলে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না। এ জন্য উৎসাহিতদের নিয়ে হল কমিটি, কেন্দ্রীয় কমিটি করা যেতে পারে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা নিজেদের দায়িত্বশীল আচরণ প্রমাণ করতে নিজেদের মেধা মনন কাজে লাগাবে, যা আগামী দিনে দেশ পরিচালনায় সঠিক ভূমিকা রাখবে।

লেখক: সমাজকর্মী ও চেয়ারম্যান, নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়