ফ্লোরিডায় ঘটলো বিশ্বের ‘সবচেয়ে ন্যাক্কারজনক, ঘৃণ্য ঘটনা’
প্রকাশ্য দিনের আলো, আশপাশে অনেক মানুষের জটলা। এরইমাঝে সংঘটিত হচ্ছিল জঘন্যতর অমানবিক কাণ্ডটি। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার সদা হৈ হুল্লোড়ময় সুমদ্র সৈকতে সেদিন গণধর্ষণের শিকার হলেন এক তরুণী।
ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনদের মধ্যে দুজনকে এরই মধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ আর তৃতীয় একজনের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার দুই ধর্ষক হচ্ছে আলাবামা রাজ্যের কলেজ পড়ুয়া ছাত্র। মোবাইল ফোনে ধারণ করা ওই ধর্ষণ দৃশ্য দেখার পর কর্তৃপক্ষ তাদের বহিষ্কার করে। ভিডিওতে দেখা যায়, গণধর্ষণের ওই দৃশ্য বসন্তকালীন ছুটি কাটাতে আসা পর্যটকরা যেন অনেকটা আমোদের সঙ্গেই ‘উপভোগ’ করে।
বিলম্বে প্রকাশ হওয়া খবরে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে গত মার্চের ১০ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে। বর্বরতম যৌন নিগ্রহের এ ঘটনার বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি সামান্য কিছু তথ্য প্রকাশ করে। স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ সেল একটি গোলাগুলির ঘটনার তদন্তে নেমে এ ঘটনা জানতে পারে সম্প্রতি।
তবে ঘটনার শিকার নারী সম্ভবত এতটাই বিহ্বল আর মানসিক আঘাত পেয়েছেন যে এখন তিনি আর তা মনেই করতে পারছেন না। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে তিনি জানান, ঘটনাটি তিনি মনে করতে পারছেন না। তাকে টেনেহিঁচড়ে ওখানে নেওয়া হয়েছিল- এটুকু মনে আছে।
তবে যেহেতু ভিডিওতে বিষয়টি পরিষ্কার ধরা পড়েছে, সে সূত্রে পুলিশ কার্যক্রম চালাচ্ছে। শহরের শেরিফের অফিস (পুলিশ কর্তৃপক্ষ) জানিয়েছে, বাকি অপরাধীদের ধরার চেষ্টা চলছে।
শেরিফের অফিস ওই ঘটনার একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও প্রকাশ করেছে যেখানে ঘটনার সময়ে আশপাশে উপস্থিত জনতাকে দেখা যায়।
বে কাউন্টি শেরিফ ফ্রাঙ্ক ম্যাককেইথেন ওই ঘটনাকে তার জীবনে দেখা “সবচেয়ে ন্যাক্কারজনক, ঘৃণ্য” বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান- ওই ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, পানামা সিটি সৈকতে স্পিন্যাকার বিচ ক্লাবের কাছে একটি বিচ চেয়ারের ওপর আত্রান্ত এক বিবশ অসহায় নারীকে ধর্ষিত হতে দেখছে তাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকা অসংখ্য পুরুষ দাঁড়িয়ে আছে।
ক্ষুব্ধ কণ্ঠে ম্যাককেইথেন বলেন, যেখানে এই ঘটনা ঘটেছে তার ১০ ফিটের মধ্যে দাঁড়ানো ছিলেন শত শত লোক, তারা এ ঘটনা উপভোগ করছিলেন, দেখছিলেন, চাক্ষুষ করছিলেন, শুনছিলেন কী ঘটছে সেখানে... আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের সমাজ, আমাদের তরুণ প্রজন্মকে এটা নির্ধারণ করতে হবে আসলে ঠিক কোথায় এ ধরনের ঘটনা গ্রহণযোগ্য হতে পারে!
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনা সাক্ষ্য দিচ্ছে সে ধরনের এক সংস্কৃতির জরুরি অবস্থার- যে সংস্কৃতিতে কোনো নারীকে গণধর্ষিত হওয়া থেকে ঠেকানোর চেয়ে পাত্র থেকে ছলকে পড়া বিয়ার বাঁচানোকে বেশি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। তিনি জানান, ওই ঘটনার সময়ে পাশে দাঁড়ানো লোকজন তা দেখছিলেন, শুনছিলেন এবং যত্নের সঙ্গে হাতে থাকা বিয়ারের ক্যান খুলছিলেন।
শেরিফের মুখপাত্র রুথ কোরলি বলেন, ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছে এ উদ্দেশ্যে যে, লোকজন দেখুক কারা কারা ওই ঘটনার সময়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তা উপভোগ করছিলেন। লোকজনকে শুধু এটা দেখানোর জন্য না যে এটা একটা ভয়াবহ ঘটনা, বরং এটাও দেখানোর জন্য যে- এতগুলো মানুষ এই দৃশ্য চাক্ষুষ করলেন কিন্তু তাদের কেউই তা ঠেকাতে এগিয়ে আসেননি, এমনকি ডাকেননি পুলিশও!
নিউজবাংলাদেশ.কম/একে
নিউজবাংলাদেশ.কম








