অবসরে গেলেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ
দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। ছবি সংগৃহীত
দেশের বিচার বিভাগের শীর্ষ পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) অবসরে গেলেন ২৫তম প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। সংবিধান অনুযায়ী ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় তিনি বিচারিক জীবনের ইতি টানেন।
৫ আগস্টের ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনের পর এক বিশেষ ও সংকটকালীন সময়ে তিনি বিচার বিভাগের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর গত বছরের ১০ আগস্ট বিচার বিভাগে অস্থিরতা বিরাজ করছিল—সেই প্রেক্ষাপটে তাকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
১৯৫৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর জন্ম নেওয়া ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ প্রায় এক বছর সাড়ে চার মাস প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। দেশের উচ্চ আদালতের ইতিহাসে তিনিই প্রথম বিচারক, যিনি হাইকোর্ট বিভাগ থেকে সরাসরি প্রধান বিচারপতির পদে আসীন হয়ে একটি উল্লেখযোগ্য নজির স্থাপন করেন।
তার আইন পেশার শুরু ১৯৮৪ সালে জেলা আদালতে। ১৯৮৬ সালে তিনি হাইকোর্ট এবং ২০০২ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক এবং ২০০৫ সালে স্থায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। দীর্ঘ দুই দশকের বিচারিক জীবনে তিনি বহু গুরুত্বপূর্ণ রায় প্রদান ও বিচার বিভাগীয় সংস্কার কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের অবসরের পর দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। আগামীকাল রোববার (২৮ ডিসেম্বর) তিনি প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন।
আরও পড়ুন: অবসরের ৩ বছরের আগে নির্বাচন করতে পারবেন না সরকারি চাকরিজীবীরা
বিদায়ী প্রধান বিচারপতির রেখে যাওয়া সংস্কার কার্যক্রম এবং বিচার বিভাগের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন প্রধান বিচারপতি কী ভূমিকা রাখেন—এখন সেটিই নজরকাড়া বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি








