গণহত্যার কথা এড়িয়ে গিয়ে ক্ষত থেকে রক্ত ঝরতে দেওয়া হয়
গণহত্যার কথা এড়িয়ে যাওয়া অথবা অস্বীকার করার মধ্য দিয়ে ক্ষতস্থানে ব্যাণ্ডেজ না বেধে সেখান থেকে অনবরত রক্ত ঝরতে দেওয়া হয় বলে মন্তব্য করেছেন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। এ সময় তিনি আর্মেনীয়দের ওপর অটোমানদের চালানো হত্যাকাণ্ডকে বিংশ শতাব্দীর প্রথম গণহত্যা বলেও অভিহিত করেন।
আর্মেনীয়দের বিরুদ্ধে তুর্কি অটোমান শাসকদের হত্যা-নির্যাতন নিয়ে এই প্রথম খোলামেলা মন্তব্য করলেন ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের ধর্মগুরু। বছর দুয়েক আগে পোপ এই হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা বলে মন্তব্য করার পর তুরস্কের পক্ষ থেকে তার তীব্র প্রতিবাদ করা হয়েছিল।
রোববার আর্মেনীয় হত্যাকাণ্ডের শততম বার্ষিকী উপলক্ষে এক প্রার্থনা সভায় পোপ বলেন, “এ ধরনের অপরাধ অস্বীকার করলে পুরোনো ক্ষত কখনোই সারবে না।”
ভ্যাটিকানের এক গীর্জায় প্রার্থনা অনুষ্ঠান চলাকালে আর্মেনীয় হত্যাকান্ডকে নাৎসী ও স্টালিনবাদের অপরাধের সাথে তুলনা করেন পোপ ফ্রান্সিস। তিনি আরও বলেছেন, “পরে ক্যাম্বোডিয়া, রোয়ান্ডা, বুরুন্ডি এবং বসনিয়াতেও একই ধরনের গণহত্যা চালানো হয়েছে।”
ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের ধর্মগুরু এসময় বলেন, "গত শতাব্দীতে মানব সভ্যতা তিনটি বড় ধরনের ট্র্যাজেডির ভেতর দিয়ে অগ্রসর হয়েছে। এর প্রথমটি ঘটেছে আর্মেনীয় জনগোষ্ঠীর ওপর, যা বিংশ শতাব্দীর প্রথম গণহত্যা।"
পোপ বলেন, "এটাকে ঢেকে রাখা বা অস্বীকার করার অর্থ হচ্ছে ক্ষতস্থানে ব্যাণ্ডেজ না বেঁধে সেখানে থেকে অনবরত রক্ত ঝরতে দেওয়া।"
প্রসঙ্গত, নারী, শিশু ও বয়স্কদের মরুভূমিতে পাঠিয়ে দিয়ে ১৯১৫ সালে ১৫ লাখ আর্মেনীয়কে অটোমান বাহিনী সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে বলে অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন। আর্মেনিয়া প্রতি বছরের ২৪শে এপ্রিল দিনটিকে গণহত্যার সূচনা দিবস হিসেবে পালন করে থাকে।
তুরস্ক সব সময়ই এই অভিযোগ অস্বীকার করে ওই সহিংসতা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরিণতিতে হয়েছিল বলে দাবি করে আসছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসজে/এএইচকে
নিউজবাংলাদেশ.কম








