দিল্লি-বেঙ্গালুরুতে ৬০ স্কুলে বোমা হুমকি
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের রাজধানী দিল্লি এবং দক্ষিণের প্রযুক্তিনগরী বেঙ্গালুরু—উভয় শহরেই একযোগে অন্তত ৬০টির বেশি স্কুলে বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠানো এসব বার্তায় উল্লেখ করা হয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ট্রাই নাইট্রো টলুইন (TNT) জাতীয় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক লুকিয়ে রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে হামলাকারী ‘সকলকে পৃথিবী থেকে মুছে ফেলতে’ চায়।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) সকাল থেকেই দিল্লি শহরের পশ্চিম বিহার, দ্বারকা, হাউজ খাস, রোহিণী, লোধি এস্টেট, ভাসন্ত কুঞ্জসহ একাধিক অভিজাত এলাকার প্রায় ২০টি স্কুলে এই হুমকির ই-মেইল পৌঁছায়।
রিচমন্ড গ্লোবাল স্কুল, সেন্ট থমাস স্কুল, দ্য মাদারস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ভাসন্ত ভ্যালি স্কুল, সরদার প্যাটেল বিদ্যালয় এবং সেন্ট স্টিফেন্স কলেজ—সবই রয়েছে এই হুমকির লক্ষ্যবস্তুতে।
ই-মেইলগুলোতে একই ধরণের বার্তা পাওয়া গেছে, আমি তোমাদের স্কুলে টিএনটি বিস্ফোরক বসিয়েছি। এগুলো কালো প্লাস্টিক ব্যাগে রাখা। আমি জীবনকে ঘৃণা করি, কেউ বাঁচবে না। এই সংবাদ দেখে আমি আত্মহত্যা করব।
এছাড়া কয়েকটি বার্তায় মানসিক রোগ, চিকিৎসার ব্যর্থতা ও বিষণ্নতা নিয়েও আত্মসমালোচনামূলক মন্তব্য রয়েছে। পুলিশ বলছে, বার্তাগুলোর ভাষা সহিংস ও গভীরভাবে মানসিকভাবে অসুস্থ একজন ব্যক্তির লেখা বলে মনে হচ্ছে।
দিল্লি পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে বোম্ব স্কোয়াড ও ডগ স্কোয়াড পাঠিয়ে তল্লাশি শুরু করে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মীদের তাৎক্ষণিকভাবে সরিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। এ পর্যন্ত কোথাও কোনো বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি, তবে সেন্ট স্টিফেন্স কলেজে এর আগে একবার দেশি বিস্ফোরক ও আরডিএক্স উদ্ধার হয়েছিল বলে হিন্দুস্তান টাইমস জানায়।
আরও পড়ুন: ভারতে বজ্রাঘাতে একদিনে ১৯ জনের মৃত্যু
সাইবার অপরাধ দমন ইউনিট হুমকি ই-মেইলগুলোর উৎস শনাক্তে তদন্ত করছে।
প্রাথমিকভাবে এগুলোর উৎস ভারতীয় নেটওয়ার্ক থেকেই এসেছে বলে ধারণা। তবে পুলিশ নিশ্চিত নয়, এটি একক কোনও মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত ব্যক্তির কাজ, নাকি এর পেছনে রয়েছে সাংগঠনিক ষড়যন্ত্র।
দিল্লির পাশাপাশি, কর্নাটকের বেঙ্গালুরু শহরের ৪০টির বেশি স্কুলেও একই ধরনের ই-মেইল পাঠানো হয়। রাজরাজেশ্বরী নগর, কেঙ্গারি ও অন্যান্য এলাকায় আভিনব পাবলিক স্কুল, জাতীয় পাবলিক স্কুল, কুমারানস হাইস্কুল প্রভৃতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।
সকাল থেকেই স্কুলগুলোতে তল্লাশি শুরু হয়। শিশুদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং পুলিশ স্কুলপ্রাঙ্গণে চৌকস উপস্থিতি বজায় রাখে। এখানেও কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি, কিন্তু আতঙ্ক ছড়িয়েছে ব্যাপকভাবে।
দিল্লির সাবেক উপ-মুখ্যমন্ত্রী আতিশী বলেন, দিল্লির ২০টির বেশি স্কুলে একই দিনে বোমার হুমকি—এটা শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি। বিজেপি সরকার চার-স্তরের প্রশাসন চালাচ্ছে, অথচ ন্যূনতম নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না।
দিল্লি পুলিশ জানায়, বার্তাগুলোর মধ্যে মানসিক সংকট, আত্মঘাতী প্রবণতা এবং চিকিৎসার প্রতি হতাশা সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তাই সাইবার তদন্তের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েও বিশ্লেষণ চলছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








