News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:৫৪, ১৭ জুলাই ২০২৫

পাকিস্তানে প্রবল বৃষ্টিতে ২৪ ঘণ্টায় ৬৩ জনের মৃত্যু. জরুরি অবস্থা

পাকিস্তানে প্রবল বৃষ্টিতে ২৪ ঘণ্টায় ৬৩ জনের মৃত্যু. জরুরি অবস্থা

ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে বুধবার সকাল থেকে মুষলধারে টানা বৃষ্টিতে গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বাড়িঘর ধস ও বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে আরও অন্তত ২৯০ জন আহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে এসেছে। প্রদেশটির একাধিক জেলায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।

প্রবল বৃষ্টির কারণে বাড়ি ধসে পড়ে অনেকের মৃত্যু হয়েছে। আবার অনেকে পানিতে ডুবে কিংবা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

রাজধানী ইসলামাবাদের কাছে রাওয়ালপিন্ডি নগরীর কর্তৃপক্ষ লোকজনকে ঘরে রাখতে বৃহস্পতিবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। যারা নগরীটিতে ফুলে ফেঁপে ওঠা নদীর কাছাকাছি বাস করছেন তাদেরকে সেখান থেকে সরে যেতে বলা হয়েছে।

বিবিসি জানায়, জুনে বৃষ্টির মৌসুম শুরুর পর প্রবল বর্ষণে সর্বশেষ বুধবারের ৬৩ জন নিহত নিয়ে পাকিস্তানজুড়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮০ জনে। এদের অর্ধেকের বেশিই শিশু।

বৃষ্টির কারণে বন্যায় পাঞ্জাব প্রদেশজুড়ে কয়েকটি এক্সপ্রেসওয়ে বন্ধ হয়ে গেছে এবং কয়েক ডজন ফ্লাইট বিলম্বিত কিংবা বাতিল হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইরাকে শপিংমলে আগুন, ৬০ জনের মৃত্যু

বৃহস্পতিবার প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ বেশ কয়েকটি এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করার কথা জানান। বাসিন্দাদেরকে নিরাপত্তা বিষয়ক নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে এক্সে তিনি লেখেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্যোগ সামলাতে যথাসাধ্য চেষ্টা করছে।”

পাঞ্জাবের চাকওয়ালে গত একদিনে ৪০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, উদ্ধারকারী নৌকাগুলো বন্যার পানিতে আটকে পড়া মানুষদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। সামরিক হেলিকপ্টারগুলোকেও বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় চক্কর দিতে দেখা গেছে।

পাঞ্জাব কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, সামনের দিনগুলোতে আরও বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রদেশজুড়ে হাজার হাজার উদ্ধারকর্মীকে কাজের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

প্রায় ২৫ কোটি জনসংখ্যার দেশ পাকিস্তান বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর একটি। দেশটিতে মূলত প্রধান দুইরকম আবহাওয়া বিরাজ করে। একটি চরম তাপমাত্রা ও খরা আর অন্যটি মৌসুমি বৃষ্টি।

এছাড়াও পাকিস্তানে আছে ১৩ হাজারেরও বেশি হিমবাহ। এগুলো জলবায়ু পরিবর্তানের প্রভাবে এখন দ্রুত হারে গলছে।

২০২২ সালে মৌসুমি বৃষ্টিতে পাকিস্তানের এক-তৃতীয়াংশ পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল। এতে ১,৭০০ মানুষের মৃত্যু হয় এবং ৩০০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়