News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৩:০২, ১৭ জুলাই ২০২৫

আলাস্কায় ৭.৩ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

আলাস্কায় ৭.৩ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের উপকূলবর্তী এলাকায় ৭ দশমিক ৩ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, যার পরপরই অঞ্চলজুড়ে জারি করা হয় সুনামি সতর্কতা। 

তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সতর্কতাটি প্রত্যাহার করা হয়। ভূমিকম্প ও পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সতর্ক রয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, স্থানীয় সময় বুধবার, ১৬ জুলাই দুপুর ১২টা ৩৭ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোর) কম্পনটি অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল আলাস্কার দ্বীপ শহর স্যান্ড পয়েন্ট থেকে প্রায় ৫৪ মাইল (৮৭ কিলোমিটার) দক্ষিণে এবং কেন্দ্র ছিল অগভীর স্তরে, মাত্র ১২.৫ মাইল (প্রায় ২০.১ কিমি) গভীরে।

ভূমিকম্পের পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র দক্ষিণ আলাস্কা ও আলাস্কা উপদ্বীপের জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করে। সতর্কতার আওতায় ছিল কেনেডি এন্ট্রান্স (হোমার শহর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে) থেকে ইউনিম্যাক পাস (উনালাস্কার উত্তর-পূর্বে) পর্যন্ত প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল।

তবে ভূমিকম্পের দুই ঘণ্টা পর এক বিবৃতিতে এনটিডব্লিউসি জানায়, সুনামির আশঙ্কা কেটে যাওয়ায় সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তৎকালীন সময়ে স্যান্ড পয়েন্ট এলাকায় সর্বোচ্চ ০.২ ফুট (৬.১ সেন্টিমিটার) উচ্চতার ক্ষুদ্র সুনামি পর্যবেক্ষণ করা হয়।

আরও পড়ুন: স্পেনে দাবদাহে গত দুই মাসে ১১৮০ মৃত্যু

ভূমিকম্পের পরপরই অন্তত এক ডজন আফটারশক বা পরাঘাত রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল ৫.২ মাত্রার। স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে দূরে থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না জরুরি কর্মকর্তারা পুনরায় বসবাসের অনুমতি দেন।

আলাস্কা প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’–এর অংশ, যা ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি বিস্ফোরণের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত অঞ্চল।

এই অঞ্চলে ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পটি সংঘটিত হয়েছিল ১৯৬৪ সালের মার্চে—মাত্রা ছিল ৯.২। ওই কম্পনে অ্যানকোরেজ শহর প্রায় সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায় এবং সৃষ্ট সুনামি যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল ও হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হানে। প্রাণ হারান ২৫০ জনের বেশি এবং ক্ষয়ক্ষতি হয় প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

সাম্প্রতিক সময়ে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে আলাস্কার উপদ্বীপে আরও একটি শক্তিশালী (৭.২ মাত্রা) ভূমিকম্প হয়, তবে তা উল্লেখযোগ্য ক্ষতি না ঘটিয়েই কেটে যায়।

এইবারের ভূমিকম্প সুনামি সতর্কতা নিয়ে আসলেও ব্যাপক ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে এতে আবারও উঠে এসেছে এই অঞ্চলের ভূমিকম্পপ্রবণ প্রকৃতি এবং দুর্যোগের ক্ষেত্রে দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও সতর্কতা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা।

স্থানীয় প্রশাসন, জরুরি সেবাবাহিনী এবং জাতীয় সংস্থাগুলো সম্ভাব্য পরাঘাত ও দুর্বল স্থাপনায় সম্ভাব্য ক্ষতির ব্যাপারে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। স্থানীয়দের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত উপকূলীয় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ফিরে না যাওয়ার।

এই ভূমিকম্প আবারও স্মরণ করিয়ে দিল যে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে সচেতনতা, সময়োপযোগী সতর্কতা এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ার কোনো বিকল্প নেই।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়