News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:৪৩, ১৮ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ২১:০৭, ১৭ জানুয়ারি ২০২০

সিসি টিভিতে চিহ্নিত যুবকরা অধরা

সিসি টিভিতে চিহ্নিত যুবকরা অধরা

ঢাকা: পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় ঘটে যাওয়া যৌন নিপীড়নের ঘটনায় কয়েকজন যুবককে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তবে এখনও ওই মামলায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। বরং তদন্তের দোহায় দিয়ে চিহ্নিতদের নাম বা পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়নি পুলিশের পক্ষ থেকে।

যৌন নিপীড়নের ঘটনা তদন্তে শনিবার পৃথক দু’টি তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয়ার পর ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, “সিসি টিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ দেখে কয়েকজন যুবককে শনাক্ত করা গেছে। আর ফুটেজগুলো এবং বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত, প্রচারিত ছবি ও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে যেটা পেয়েছি, বিবস্ত্র করার যে ছবি প্রকাশিত হয়েছে, সেটি আসলে কোনো মেয়ের ছবি নয়। এটি ঢাকা ইউনিভার্সিটি বা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেরও নয়। এটি চানখাঁরপুলে একটি ছেলেকেই কয়েকজন ধরে গণপিটুনি দিচ্ছে। আমরা দেখেছি তাকে মেয়ে বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে কেউ কেউ।”

তিনি আরও বলেন, “বর্ষবরণে টিএসসির আশপাশের এলাকায় মানুষের সমাগম ছিল বেশি। ওখানে ঠ্যালা-ধাক্কা, হাতাহাতি হয়েছে। একেবারেই কিছু বিকৃতমনা যুবক এবং যারা অপুরুষসুলভ তারাই হয়তো এ কাজটি করেছে। তাদের চিহ্নিত করে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য কাজ চালাচ্ছি।”

ফুটেজ দেখে যুবক চিহ্নিত হলেও কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না? জবাবে তিনি বলেন, “আমরা আশাবাদী দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দেবে। প্রতিবেদন পেলে আমরা পূর্ণাঙ্গভাবে বলতে পারব ওইদিন কী ঘটেছিল, বা কারা প্রকৃত অপরাধী।”

যদিও বর্ষবরণের দিন টিএসসি এলাকায় সংঘবদ্ধ যুবকদের হাতে নারীরা যৌন হয়রানীর শিকার হতে পারেন বলে আগেই প্রতিবেদন দিয়েছিলো গোয়েন্দা সংস্থা। কিন্তু তারপরও এমন অপ্রীতিকর ঘটনা কীভাবে ঘটলো জানতে চাইলে শাহবাগ থানার ওসি সিরাজুল ইলসাম বলেন, “গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনটি আমলে নিয়েই টিএসসি এলাকায় পুলিশের অতিরিক্ত ক্যাম্প বসানো হয়েছিলো। তাছাড়া নারীদের সন্ধ্যার আগেই স্থান ত্যাগের অনুরোধ করা হয়েছিলো। তারপরও অনেকেই সন্ধ্যার পরও টিএসসিতে ছিলেন। এসময় লোকজনের ভীড়ের পাশাপাশি আলোরও কিছুটা স্বল্পতা ছিলো। তাই আমরা এখনো এমন কোনো প্রমাণ পাইনি। প্রকৃত ঘটনা কী আমরা তা খতিয়ে দেখছি।”

এর আগে ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ১৫ এপ্রিল, বুধবার রাত পৌনে ১২টায় শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের দায়ী করে মামলা করেন। কিন্তু এই মামলার ৭২ ঘণ্টারও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও গ্রেফতার হয়নি কোন আসামি।

উল্লেখ্য, নারী লাঞ্ছনার ঘটনা তদন্ত করে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলে আইজিপি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে আদালত রুল দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার স্বপ্রণোদিত হয়ে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এনএইচ/এজে

নিউজবাংলাদেশ.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়