News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৪:৪০, ১৬ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ০৪:৪১, ১৯ জানুয়ারি ২০২০

রামপুরা ট্র্যাজেডি:

এখনও ঝুঁকিতে ৩ বাড়ির শতাধিক বাসিন্দা

এখনও ঝুঁকিতে ৩ বাড়ির শতাধিক বাসিন্দা

ঢাকা: রামপুরা বৌবাজার এলাকার ঝিলপাড়ে দেবে যাওয়া দোতলা টিনের বাড়ির পাশেই চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে আরো ৩টি বাড়ি। এসব বাড়িতে বসবাস করা অন্তত শতাধিক বাসিন্দা রয়েছেন ডোবার পানিতে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কায়। বাড়িগুলোর শিশু থেকে শুরু করে কিশোররাও ঘুরছে বাইরে বাইরে।

বাড়ি ৩টির অবস্থান: রামপুরা বৌবাজার এলাকার দেবে যাওয়া দুইতলা টিনের বাড়ির ঠিক পশ্চিম পাশেই অর্ধেক পাটাতন আর অর্ধেক মাটি ফেলে ডোবা ভরাট করে তৈরি করা হয়েছে টিনের লম্বা একটি বাড়ি, যার মধ্যে কক্ষ রয়েছে ১০টি। আর এসব কক্ষে বসবাস করেন অন্তত ৫০ জন, যার মধ্যে রয়েছে শিশু, কিশোর থেকে শুরু করে বৃদ্ধাও। টিনের ওই বাড়িটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা তত্ত্বাবধায়ক আব্দুস সাত্তারের সাথে কথা বলে জানা যায়, ওই বাড়ির মালিকের নাম লতিফ খান।
ডোবার মধ্যে আড়াই কাটার জায়াগার ওপর গড়ে তোলা ওই বাড়ির নিচে রয়েছে ১২ ফুট পানি। ৩২টি সিমেন্টের খুঁটি, গজারি কাঠের পেলা (ঠেস দেয়া কাঠ) এবং অ্যাঙ্গেলের ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা হয়েছে বাড়িটি।

লতিফ খানের বাড়ির ঠিক ডান পাশেই রয়েছে সরফুদ্দিনের বাড়ি। এই বাড়িটিও অনেকটা একই কায়দায় অর্ধেক মাটি আর অর্ধেক পানির ওপর গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে বসবাস করে অন্তত ৩০ জন। এর ঠিক বিপরীত পার্শ্বে রয়েছে হারুন অর রশিদের বাড়ি, যেখানে বসবাস করে অন্তত ২০ জন। এই বাড়িরও ভাড়া তোলেন আব্দুস সাত্তার। তার সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি প্রায় ১৫ বছর যাবৎ এখানে ভাড়া তোলার কাজ করেন। তবে বাড়ির মালিকদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে লতিফ খানের বাড়ির বেশ কয়েকজন ভাড়াটিয়া দাবি করেন, এই দুর্ঘটনার পর থেকে তাদের বাচ্চারা ভয়ে ওই বাড়িতে থাকতে চাইছে না। এমনকি জোর করেও ছেলে মেয়েদের ওখানে রাখা যাচ্ছে না। কিন্তু অন্যত্র যাওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় তারা ডোবার ওপর ভাসমান ওই বাড়ি ছাড়তেও পারছেন না।

পরিচয় গোপন করে বাড়ি ৩টির তত্ত্বাবধায়ক আব্দুস সাত্তারের সাথে কথা বলে জানা যায়, এগুলো সবই সরকারি খাস জায়গা, যার ওপর ১শ’ বছরের লিজ নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে টিনের বাড়ি।

বাড়ি, নাকি ক্রাইম জোন? স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বৌ-বাজারের ডোবায় অবস্থিত বাড়িগুলোকে ক্রাইম জোন হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলো মুনির চৌধুরী ও তার ভাই মুজিবর রহমান, যিনি টিফিন ক্যারিয়ার প্রতীক নিয়ে ১৭ নং ওয়ার্ডের কমিশনার প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নাম না প্রকাশ করা শর্তে স্থানীয়রা দাবি করেন, বাড়িগুলো ডোবার ওপর হওয়ায় পুলিশ বা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা খুব সহজেই সেখানে প্রবেশ করতে পারেন না। ঠিক এই সুযোগটি কাজে লাগিয়েই মুনির চৌধুরী ও তার ভাই মিলে টিনের ভাসমান ঘরগুলোতে গড়ে তুলেছেন অপরাধের ঘাঁটি, যেখানে মাদক থেকে শুরু করে অস্ত্র এমনকি দেহ ব্যবসাও চলে অবাধে। প্রতিদিনই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েকশ সিএনজি চালক আসে ওই বাড়িগুলোতে অবকাশ যাপনের জন্য।

উল্লেখ্য, বুধবার বিকেলে রামপুরা বৌবাজার ঝিলপাড় এলাকায় টিনের দোতলা বাড়ি দেবে যাওয়ার ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন, আহত হয়েছেন অর্ধশত।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এনএইচ/এজে

নিউজবাংলাদেশ.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়