বৈসাবি উৎসবে মুখরিত পাহাড়কন্যা বান্দরবান
বান্দরবান: পাহাড়, হ্রদ, ঝিরিঝিরি বয়ে চলা ঝরণা আর অরণ্যের শহর বান্দরবানে শুরু হয়েছে বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ উৎসব। পাহাড়কন্যা বান্দরবান এখন তাই পাহাড়িদের প্রাণের উৎসব সাংগ্রাইয়ে মুখরিত।
এ সময় পানিখেলা বা ‘জলকেলি’ হয়। এ খেলায় একটি নৌকা ভরে পানি রাখা হয়। ওই নৌকার এক পাশে দাঁড়ায় তরুণরা অন্য পাশে তরুণীরা। নৌকা থেকে মগে পানি ভরে তরুণ-তরুণীরা একে অন্যের দিকে ছুড়ে মারে। স্নিগ্ধতা, ভালোবাসা আর শ্রদ্ধায় ভিজিয়ে দেয় পরস্পরকে।
এছাড়া এদিনে মারমারা বৌদ্ধমন্দিরে গিয়ে ধর্মীয় বাণী শোনে। গিলার বিচি দিয়ে ‘গিলাখেলা’ এ সময় মারমাদের একটি প্রিয় খেলা। গ্রাম্য ছেলেমেয়েরা গুদু (হাডুডু) খেলায় মেতে ওঠে আর আকাশ প্রদীপ জ্বালিয়ে মহানন্দে বাজি ফোটায়।
এ উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সংগঠন, প্রতিষ্ঠান, সম্প্রদায় ও সর্বস্তরের মানুষ নানা অনুষ্ঠানের উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে, যা আদিবাসীদের সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চায় এনে দেয় নতুন মাত্রা।
চাকমাদের ভাষায় এ উৎসবকে বিজু, ত্রিপুরাদের ভাষায় বৈসুক, মারমাদের ভাষায় সাংগ্রাই, তঞ্চঙ্গ্যাদের ভাষায় বিষু নামে আখ্যায়িত করা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ১১টি জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রধান তিন সম্প্রদায়ের প্রাণের এ উৎসবের নামের আদ্যাক্ষর নিয়ে এ উৎসবকে অনেকেই ‘বৈসাবি’ নামে অভিহিত করে থাকে। তবে প্রতিটি সম্প্রদায়ই নিজ নিজ নামে অভিহিত করে নিজ উৎসবকে।
বৈসাবি উৎসবের ‘সা’ আদ্যাক্ষরটি পাহাড়ের অন্যতম নৃ-গোষ্ঠী মারমাদের ‘সাংগ্রাই’ উৎসব থেকে নেয়া। মারমাদের অন্যতম প্রধান সামাজিক উৎসব হলো সাংগ্রাই। মারমারা সাধারণত চন্দ্রমাস অনুসারে এ দিনটি পালন করে থাকে। সাংগ্রাই উৎসব উদযাপনের সময় মারমা তরুণ-তরুণীরা পিঠা তৈরি করার জন্য চালের গুঁড়া প্রস্তুত করে।
প্রতি বছরই ঘুরেফিরে আসে বিজু, বিষু, বিহু আর সাংগ্রাই উৎসব। এসময় পাহাড়ে ছড়িয়ে পড়ে প্রাণের নতুন জাগরণ। নব-আনন্দে জাগে পাহাড়ের প্রাণ। পার্বত্যাঞ্চল জুড়ে শুরু হয় এক মহামিলনের মেলা। আর তাই বৈসাবি উৎসব হয়ে ওঠে পাহাড়ের প্রাণের উৎসব।
মারমা, চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা, বম, খিয়াং, লুসাই, পাংখোয়া, ম্রো, খুমি, চাক ও ত্রিপুরা- এ ১১টি ক্ষুদ্র নৃ-জনগোষ্ঠী তাদের ভাষা-সংস্কৃতি ও অবস্থানকে বৈচিত্র্যময় করে তুলতে প্রতি বছর চৈত্রের শেষদিন থেকে সাংগ্রাই উৎসব পালন করে থাকে।
এরই ধারাবাহিকতায় আজ থেকে র্যালি, পান্তাইলিশ, বর্ষবরণের গান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পাহাড়িদের জলকেলিসহ শুরু হয়েছে নানা আয়োজন। চলবে ১৬ই এপ্রিল পর্যন্ত।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এটিএস
নিউজবাংলাদেশ.কম








