‘রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের আগে পরিসংখ্যান করা হোক’
ঢাকা: রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের আগে বিজ্ঞানসম্মত পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ (ইআইএ) পরিসংখ্যান করা হোক বলে দাবি জানিয়েছেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক অ্যাড. সুলতানা কামাল।
রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে সাউথ এশিয়া ফর হিউম্যান রাইটস আয়োজিত ফ্যাট ফাইন্ডিং মিশন টু রামপাল শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।
তিনি বলেন, “আমরা রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিরোধিতা করি না। দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য এ ধরনের বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রয়োজন। কিন্তু আমরা চাই সুন্দরবনের কাছে প্রস্তাবিত রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি স্থাপনের আগে সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষার জন্য বিজ্ঞানসম্মত পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ (ইআইএ) পরিসংখ্যান করা হোক।”
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “বিজ্ঞানসম্মত পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ (ইআইএ) পরিসংখ্যান করে কোথায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা যায় তা নির্বাচন করতে হবে। আর সেটা রামপাল না হয়ে পরিবেশের ওপর প্রভাব পড়বে না এমন কোনো জায়গায় স্থাপন করা যেতে পারে।”
বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ভারতের সাথে চুক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ২১ এপ্রিল তিনটি চুক্তি হয়। কয়লাভিত্তিক এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হলে সুন্দরবন হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞ, পরিবেশবিদ এবং রামপালের বাসিন্দারা।”
রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ বন্ধের দাবি জানিয়ে সুলতানা কামাল আরো বলেন, এ ব্যাপারে জনগণের চূড়ান্ত মতামত নেয়ার আগে সব কাজ বন্ধ করতে হবে। ২৭০ মিটার উচ্চতার চিমনি থেকে বের হওয়া ধোঁয়া শীতকালে যখন বনের দিকে অনবরত প্রবাহিত হতে থাকবে তখন সুন্দরবনের ক্ষতি অবশ্যই হবে।”
তিনি বলেন, “এছাড়াও সাইক্লোন ও টর্নেডোর সময় কালো বাতাসের গতি যে কোনো দিকে হতে পারে। ছোট-বড় নৌযান দিয়ে কয়লা স্থানান্তরিত করা হলে সুন্দরবনের এবং পশুপাখির যে ক্ষতি হবে তা নিয়ে বিস্তারিত সমীক্ষা হয়নি।”
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল, সাউথ এশিয়া ফর হিউম্যান রাইটের সদস্য খুশি কবির, প্রফেসর আব্দুল্লাহ হারুণ চৌধুরী প্রমুখ।
নিউজবাংলাদেশ.কম/টিএ/এটিএস
নিউজবাংলাদেশ.কম








