News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১০:০৪, ১১ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ০২:৩৩, ১৯ জানুয়ারি ২০২০

ডিবি পরিচয়ে ছিনতাই

ডিবি পরিচয়ে ছিনতাই

ঢাকা: গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে প্রতারণা করে এমন চক্রের টার্গেট বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যাংক কেন্দ্রিক। কারণ, এরা নগদ টাকায় বিশ্বাসী। ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টার থেকে টার্গেট করা হয় যে কোনো এক ব্যক্তিকে। পরে সে টাকা তুলে ব্যাংক থেকে বের হওয়ার সাথে সাথেই তাকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তুলে নেয়া হয় মাইক্রোবাসে। গাড়িটি নিরাপদ স্থানে পৌঁছানো মাত্র ওই ব্যক্তির সঙ্গে থাকা সব কিছু নিয়ে নামিয়ে দেয়া হয়। এভাবেই ডিবি পুলিশের পোশাক পরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিল চাকরিচ্যুত সেনা সদস্য সিরাজ হাওলাদারের নেতৃত্বে একটি চক্র।

ডিবি পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত সোয়া ১১টায় রমনা থানাধীন নয়াটোলার ৫৪৬ নম্বর বাসা থেকে সিরাজ হাওলাদার, মো. আবুল হোসেন ও মো. শাহাবুদ্দিনকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত ৩টার দিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার নাবিস্কো মোড় থেকে ফরহাদ গাজী, সামাদ, তারা মিয়া, নান্নু মিয়া এবং আরিফ নামের আরো ৫ প্রতারককে আটক করে ডিবি পুলিশ।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি গণমাধ্যম কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবি যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম এ সব তথ্য জানান।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, “পলাতক আসামি মিঠুর নেতৃত্বে এই চক্রটি চলতি মাসের ৭ তারিখ রাতে বনানী এলাকা থেকে এক ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে তার সঙ্গে থাকা দেড় লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়।”

এছাড়া এ চক্রটি পুলিশের পোশাক পরে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে প্রতারণা এবং সাধারণ মানুষকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিয়েছে বলেও প্রথামিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে বলে জানান ডিবির এ যুগ্ম কমিশনার।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ৪ জন আগেও একই মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন দাবি করে তিনি বলেন, “রাজধানীতে এমন চক্র রয়েছে অন্তত ১২টি, যাদের মধ্যে র‌্যাব এবং ডিবির হাতে এ পর্যন্ত ৫ থেকে ৭টি চক্র ধরা পড়েছে। কিন্তু পরে আবার তারা জামিনে বের হয়ে একই কাজ শুরু করেছে।”
 
মনিরুল ইসলাম বলেন, “এই চক্রটি দুটি গাড়ি ব্যবহার করে। এর একটি থাকে মূল গাড়ি, অন্যটি ব্যাকআপ। কেউ তাদের চ্যালেঞ্জ করলে পেছনের গাড়িটি এসে কৌশলে তাদের বাঁচিয়ে নিয়ে যায়।”
 
সাধারণ জনগণের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “যখনই কেউ ডিবি পুলিশ পরিচয়ে কাউকে ধরতে যাবে, অবশ্যই তাদের আইডি কার্ড দেখবেন। ডিবি পুলিশের প্রত্যেক সদস্যকেই বলা আছে, তারা যখন কোনো অপারেশনে যাবেন বা কাউকে ধরতে যাবেন অবশ্যই ধরার আগে নিজের পরিচয় দিতে হবে।”

নিউজবাংলাদেশ.কম/এনএইচ/এএইচকে

নিউজবাংলাদেশ.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়