News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৮:৩৩, ১১ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ১১:৫০, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০

‘১৮০ বাংলাদেশিকে বমি চেটে খেতে বাধ্য করা হয়’

‘১৮০ বাংলাদেশিকে বমি চেটে খেতে বাধ্য করা হয়’

যশোহর: মদ খেয়ে বমি করে তা ১০৮ বাংলাদেশিকে চেটে খেতে বাধ্য করা হয় ইরাকের নাজাফ শহরে। এতথ্য জানিয়েছেন ইরাক থেকে দেশে ফিরে আসা ইঞ্জিনিয়ার মো. সিদ্দিক।

শনিবার সকালে জেলা প্রেসক্লাব আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, “শ্রম পাচারের নামে বাংলাদেশের কতিপয় রিক্রুটিং এজেন্সি বিদেশে মানুষের কেনাবেচা করে। সেখানে বাংলাদেশিদের দাস হিসেবে কিনে স্থানীয়রা নির্যাতন চালায়।”

তিনি আরো বলেন, “গত বছরের ২২ মে রিক্রুটিং এজেন্সি ক্যারিয়ার ওভারসিস কনসালটেন্ট লি. যে ১৮০ জন বাংলাদেশিকে ইরাকে নিয়ে গিয়েছিলো তাদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়।”


নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, “তাদেরকে নাজাফ শহরে একটি বদ্ধ ঘরে আটকে সকাল-বিকেল-রাতে পাইপ ও লোহার রড দিয়ে পেটানো হয়। মদ খেয়ে বমি করে সেগুলো চেটে খেতে বাধ্য করা হয়। এছাড়া অনেকের ওপর চালানো হয় যৌননির্যাতন।”

তিনি আরো বলেন, “কাউকেই ঠিকমতো খাবার দেয়া হতো না। দিনে ২০ ঘণ্টা কাজ করিয়ে নেয়া হতো এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা না রেখে বহুতল ভবনের ওপর উঠে কাজ করানো হতো। ক্যারিয়ার ওভারসিস কোম্পানির লোক ছাড়াও ভাড়া করা ইরাকি সন্ত্রাসীরা তাদেরকে দিয়ে এসব কাজ করিয়ে নিত।”

তিনি বলেন, “সরকারের চোখে ধুলো দিয়ে ক্যারিয়ার ওভারসিস কোম্পানি বিদেশে মানব পাচার করে আসছে। যেখানে কাজের কোনো সুযোগ নেই, যে দেশটি যুদ্ধবিধ্বস্ত এবং যেখানে বিদেশিদের জীবনের নিরাপত্তা প্রশ্নের সম্মুখীন সেদেশে মানুষ পাঠানোর নির্দেশনা কীভাবে ওই রিক্রুটিং এজেন্সিকে দেয়া হলো?”

তিনি আরো বলেন, “১৮০ জনকে কাতারে নিয়ে যাওয়ার জন্য চুক্তি করেছিলো ক্যারিয়ার। কিন্তু তাদের সাথে প্রতারণা করে এবং কোনো কিছু বুঝতে না দিয়েই ইরাকে নিয়ে যাওয়া হয়। ক্যারিয়ারের এ অবৈধ কাজের সহযোগিতায় রয়েছেন ইরাকস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রধানসহ কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী।”

উল্লেখ্য, ইরাকের বন্দিদশা থেকে পালিয়ে স্থানীয় বাংলাদেশিদের সহায়তায় ৪ এপ্রিল দেশে ফিরে আসেন ইঞ্জিনিয়ার মো. সিদ্দিক। সংবাদ সম্মেলনে তিনি মানব পাচারের দায়ে ক্যারিয়ার ওভারসিস কনসালটেন্ট লি. এবং তাদের সহযোগীদের শাস্তি দাবি করেন।

তিনি আরো দাবি করেন, প্রতারণার শিকার ওইসব বাংলাদেশিদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হোক এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়া হোক। সংবাদ সম্মেলনে সিদ্দিকের ভাই মো. জাভেদ এবং মানবাধিকারকর্মী সরোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এটিএস

নিউজবাংলাদেশ.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়