News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১১:০২, ১৩ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ১৯:০৮, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০

শিশুর ওপর কথিত জিনের বাদশার বর্বর নির্যাতন

শিশুর ওপর কথিত জিনের বাদশার বর্বর নির্যাতন

টাঙ্গাইল: কথিত জিনের বাদশার অলৌকিক শক্তির কেরামতিতে ৪ বছরের এক শিশু এখন হাসপাতালে। কেটে নেয়া হয়েছে শিশুটির পুরুষাঙ্গের সামনের অংশ। তার শরীরের ১২টি স্থানে ফুটো করে নেয়া হয়েছে রক্ত।

জানা গেছে, ধনবাড়ি উপজেলার বলিয়াবাড়ীর রিক্সাচালক হাসান আলীর মেয়ে শাহিদা বেগমের বিয়ে হয় একই গ্রামের আব্দুল হাইয়ের সাথে। আগের স্ত্রী ৩ সন্তান রেখে মারা গেলে হাসান দ্বিতীয় বিয়ে করেন। টাঙ্গাইল পৌরসভার চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী আব্দুল হাই জেলা শহরের ঈদগাঁ মাঠ এলাকায় ভাড়া বাসায় সপরিবারে বসবাস করেন।

প্রথম পক্ষের বড় ছেলে শামিম হোসেন সৎমা ও ভাইবোনের সাথে থেকে টেক্সটাইল কলেজে লেখাপড়া করে। দুই মাস আগে পরিচয় হয় পৌরসভার ছত্রপুর চরভাতকুড়া গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে কথিত জিনের বাদশা সবুজ মিয়ার সাথে। সবুজ মিয়া এক পর্যায়ে শামিমের পরিবারকে অলৌকিকভাবে পাঁচ কোটি টাকা এবং নারী জিনের সাথে শামিমকে বিয়ে করানোর প্রস্তাব দেয়।

এজন্য ৬ মার্চ রাতে শামিমকে গায়ে হলুদ দিয়ে সাজানো হয়। সবুজ সারারাত ধরে শামিমকে নানা মন্ত্র পড়ায়। পরদিন সবুজ শাহিদাকে নির্দেশ দেয়, সপরিবারে এক সপ্তাহ ভিক্ষা করার জন্য। জিনকে বধূ হিসেবে এবং ৫ কোটি টাকা পেতে পরিবারের সবাই মিলে টাঙ্গাইল শহরে এক সপ্তাহ ভিক্ষে করে বেড়ায় পরিবারটি।

প্রত্যেক দিন আদায় হওয়া ভিক্ষার হাজার-বারশ’ টাকা সবুজের হাতে তুলে দেয় তারা। এরপর সবুজ আরো ২০ হাজার টাকা লাগবে বলে জানায়। শাহিদা বেগম রিক্সাচালক বাবার শরণাপন্ন হলে সুদে ২০ হাজার টাকা জুগিয়ে দেন তিনি। এরপর ৭০ ঘাটের জল, পাঁচশ’ প্রজাতির গাছের পাতা তাদেরকে দিয়ে সংগ্রহ করানো হয়।

এরপর যে শর্ত জুড়ে দেয় জিনের বাদশা তা রীতিমতো ভয়ংকর। ৪ বছরের শিশু বায়েজিদের পুরুষাঙ্গের চামড়া লাগবে। ২০ মার্চ রাতে বায়েজিদের হাত-পা ও মুখ বেঁধে তার পুরুষাঙ্গের অগ্রভাগ ব্লেড দিয়ে কাটা হয়। বায়েজিদ এসময় যন্ত্রণায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে।

জ্ঞান ফিরলে কান্নাকাটি করলে তার দুই হাত-পা ভেঙে দেয়া হয়। ২ এপ্রিল জিনের বাদশা সবুজ বায়েজিদের শরীরের অন্তত দশ জায়গায় ফুটো করে রক্ত নেয়। এসব দ্রব্য একসঙ্গে করে ২০ এপ্রিল কালী সাধন করবে সবুজ। আর সেদিনই মিলবে ৫ কোটি টাকা ও বধূরূপী সুন্দরী পরি।

এদিকে যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে বায়েজিদ কান্নাকাটি করতে থাকলে তার মুখ স্কচটেপ দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়। গায়ে প্রচণ্ড জ্বর উঠলে শাহিদা বায়েজিদকে নিয়ে পালিয়ে বাবার বাড়ি চলে আসেন। এরপর তিনি স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতা নিয়ে বায়েজিদকে মধুপুর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

মধুপুর হাসপাতালের চিকিৎসকরা নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “শিশুটির দুটি হাত ও একটি পায়ের গোড়ালি ভেঙে গেছে। কচি পুরুষাঙ্গ ব্লেড দিয়ে কাটায় ক্ষত তৈরি হয়েছে। তার মাথার চামড়া কেটে রক্ত নেয়া হয়েছে। এজন্য মাথা ফুলে গেছে। এছাড়া শরীরের ১২টি স্থান ফুটো করে রক্ত নেয়া হয়েছে। এসব স্থানে ইনফেকশন দেখা দিয়েছে।”

চিকিৎসকরা আরো বলেন, “শিশুটির কানের মধ্যে টিস্যু পেপার ঢুকিয়ে দেয়ায় সে শুনতে পায় না। তার কচি পুরুষাঙ্গ অস্বাভাবিক রকম ফুলে গেছে। শিশুটি এখন হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।”

চিকিৎসকরা বলেন, “অপহরণের ভয়ে শিশুটির মা তাকে অন্য কোথাও নিয়ে যেতে চাচ্ছেন না। অথচ শিশুটির দ্রুত উন্নত মানের চিকিৎসা দরকার।”

বায়েজিদের নানা হাসান আলী নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “জিনের বাদশা নাতিটারে পাশবিক নির্যাতন চালাইছে। ভণ্ড সবুজ আর শামীম মিলে এ কাজ করছে। টাকার লোভে পইড়া আমার মেয়ে-জামাই পশু হয়ে গেছে। থানায় যাতে মামলা না দেই এজন্য নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।”

শাহিদা ও তার বাবা বলেন, “সবুজ ও শামিমের সাথে বোনজামাই হাবিবুর রহমান, মাজেদুল এবং মধুপুর উপজেলার ব্রাহ্মনবাড়ি গ্রামের জুরান সিন্ডিকেট করে জিনের বাদশার নামে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে।”

নিউজবাংলাদেশ.কম/এটিএস

নিউজবাংলাদেশ.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়