News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৮:৪৩, ১৩ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ১৮:২০, ৮ মে ২০২০

‘আ.লীগের মাস্তানরা শুধু ঘাটে টাকা দেয় না’

‘আ.লীগের মাস্তানরা শুধু ঘাটে টাকা দেয় না’

কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়া-রাজবাড়ি আঞ্চলিক সড়কের সৈয়দ মাছউদ রুমী সেতুর টোল দেয় না আওয়ামী লীগের মাস্তানরা, এছাড়া সবাই টোল প্রদান করে বলে জানিয়েছেন জেলা সওজের এসডি দেবদয়াল সরকার।

এ সেতুর টোল আদায়ে ঠিকাদার নিয়োগের জন্য দুই বছরে ১৩ বার দরপত্র আহবান করা হয়। বারবার দরপত্র আহবান করা হলেও কাঙ্ক্ষিত দর না পাওয়ায় কোনো ঠিকাদারকে কাজ দিতে পারছে না সওজ কর্তৃপক্ষ। সেতু এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, এ সুযোগে সওজ কর্মকর্তারা প্রতিদিন সেতুর টোল আদায়ের টাকা থেকে একটি অংশ তাদের পকেটে ঢোকাচ্ছে। তাই কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী চান না দ্রুত সেতুর ইজারা হোক।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নিউজবাংলাদেশকে দেবদয়াল সরকার বলেন, “টোল আদায়ে কিছু সমস্যা থাকতে পারে। তবে ভাগবাটোয়ারার বিষয়ে আমার জানা নেই। আওয়ামী লীগের মাস্তানরা শুধু ঘাটে টাকা দেয় না। এছাড়া ঠিকভাবে টাকা আদায় চলছে।”  

সড়ক ও জনপথ (সওজ) সূত্রে জানা গেছে, তিন কোটি ১৩ লাখ টাকার চুক্তিতে ২০১২-১৩ অর্থবছরের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বান্ধব ট্রেডিং ২০১২ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ২০১৩ সালের ৯ অক্টোবর পর্যন্ত এক বছরের জন্য সেতুর টোল আদায়ের ইজারা পায়।

সূত্র জানায়, এক বছরের মধ্যে ওই প্রতিষ্ঠান সওজকে মাত্র এক কোটি ৪১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা পরিশোধ করে। নির্ধারিত সময়ে বাকি এক কোটি ৭১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা পরিশোধ না করে পালিয়ে যায়। পরে সওজ কুষ্টিয়ার একটি বেসরকারি ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে বান্ধব ট্রেডিংয়ের অনুকূলে ৭৮ লাখ ২৫ হাজার টাকার নিশ্চয়তাপত্র তারা দেয়নি।

সওজ সূত্রে আরো জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৫ অক্টোবর থেকে কুষ্টিয়া সওজ তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তত্ত্বাবধানে টোল আদায় করে আসছে। প্রতিদিন গড়ে ২ লাখ টাকারও বেশি টোল আদায় হয়। ২০১৫ সালে ব্যাংকে প্রতিদিন জমা হচ্ছে এক লাখ ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত। তবে ২০১৪ সালে ব্যাংকে জমা হয়েছে প্রতিদিন গড়ে এক লাখ টাকা।

সূত্র জানায়, যোগাযোগ মন্ত্রণালয় কয়েক মাস আগে সেতুর টোল চার্জ প্রায় দ্বিগুণ করলেও সৈয়দ মাসুদ রুমী সেতুর টোল আদায় তেমন বাড়েনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে টোল আদায়ে নিয়োজিত সওজের দুই কর্মচারী নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “সেতু থেকে প্রতিদিন আদায় হয় প্রায় ২ লাখ টাকার ওপরে। এ টাকার একটি অংশ ভাগ-বাটোয়ারা হয় প্রতিদিন। আর এ কাজটি করেন সওজের কার্য সহকারী কামরুল।”
 
তারা আরো বলেন, “নির্বাহী প্রকৌশলী, এসডি, ও এসও থেকে শুরু করে টোল আদায়ে নিয়জিত সবাই ভাগ পায়। ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন নেতাও এভাগ নিয়মিত পান।”

সেতু এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেতুর টোলে যে টাকা আদায় হয় তার বড় একটি অংশ কর্মকর্তাদের পকেটে যায়। কেননা সেতু টোল প্লাজায় কোনো সিসি ক্যামেরা নেই। কতটি গাড়ি আসা-যাওয়া করছে তারও কোনো সঠিক হিসাব থাকে না। আবার অনেকে রশিদ ছাড়াই টাকা দিয়ে চলে যায়।

তারা আরো জানায়, গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে প্রতিদিন কয়েক হাজার বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। এমনকি হরতাল-অবরোধেও এ রুটে যান চলাচল কমেনি।

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউল হায়দার বলেন, “অনিয়মের বেশ কিছু অভিযোগ রযেছে। তাই ঘাটে যে টিম টোল আদায় করছে তাদের পরিবর্তনের কথা ভাবা হচ্ছে। টাকা আদায় ঠিকভাবে হচ্ছে কিনা তা দেখতে সপ্তাহখানেক আগে একটি অডিট টিমও সেখানে বসানো হয়েছে।”

নিউজবাংলাদেশ.কম/এটিএস

নিউজবাংলাদেশ.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়