News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:৫৮, ১২ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ০৩:৩৪, ১৯ জানুয়ারি ২০২০

কড়া নজরদারিতে থাকবে নববর্ষ

কড়া নজরদারিতে থাকবে নববর্ষ

ঢাকা: বাংলা নববর্ষ ১৪২২ বরণ অনুষ্ঠানে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত থাকবে রমনা বটমূল, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো।

রোববার দুপুরে রাজধানীর মিন্টোরোডে ডিএমপির গণমাধ্যম কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “পহেলা বৈশাখের দিন রমনা ও ধানমন্ডি জোনের পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে। প্রত্যেকটি ঘটনা ধারণ করা হবে এবং তা হেড কোয়াটার থেকে মনিটর করা হবে। যদি কোথাও কোনো অপ্রীতিকর দৃশ্য দেখা যায়, তবে তাৎক্ষণিক ডিএমপির ওয়াচ টাওয়ার থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আটক করা হবে অপরাধীকে।”

রাজধানী বাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “এটি একটি সার্বজনীন উৎসব। এখানে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না হয়, সে জন্য অবশ্যই আপনারা সন্ধ্যার মধ্যে সকল অনুষ্ঠান শেষ করে বাড়ি ফিরে যাবেন।”

পহেলা বৈশাখে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপির পক্ষ থেকে কিছু বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এগুলো হলো, এদিন হ্যান্ডব্যাগ নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে যাওয়া যাবে না, রমনা পার্কের কোনো গাছে ওঠা যাবে না, ধূমপান করা যাবে না, অনুষ্ঠানে আসার সময় সঙ্গে কোনো প্রকার সন্ত্রাসী কাজে ব্যবহারযোগ্য কোনো বস্তু বহন করা যাবে না।

পুলিশ জানায়, এবার পহেলা বৈশাখে রাজধানীকে নিরাপদ রাখতে বেশ কটি পয়েন্টে স্থাপন করা হবে পুলিশের ওয়াচ টাওয়ার, যেখান থেকে সকলের চলাচলের ওপর নজর রাখা হবে। তাছাড়া এদিন বিস্ফোরক দ্রব্যের ব্যবহার ঠেকাতে থাকবে ডগস্কোয়াড ও সোয়াট বাহিনী। এছাড়া ছিনতাই প্রতিরোধে এদিন বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে ডিএমপির।

বাংলা নববর্ষ উদযাপনের অনুষ্ঠানে রাজধানীবাসীর অবাধ চলাচলের স্বার্থে রমনা ও ধানমন্ডি জোনের বেশ কটি পয়েন্টে বেরিকেড স্থাপন করবে ডিএমপি।

স্থানগুলো হলো-রমনা জোনের বাংলামটর ক্রসিং, পরীবাগ ব্রিজ, টিঅ্যান্ডটি অফিস, পুলিশ ভবন ক্রসিং, পুলিশ ভবন লিংক রোড, সুগন্ধা ক্রসিং, হেয়ার রোড, বেইলি রোডের পশ্চিম প্রান্ত, বেইলি রোডের পূর্ব প্রান্ত, দুদকের গলি, শিল্পকলা একাডেমি গলি, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের সামনে, মৎস্য ভবন ক্রসিং, সাকুরার গলি, সেগুন বাগিচা কার্পেট গলি, প্রেসক্লাবের উভয় পাশ, আ. গনি রোডের পশ্চিম প্রান্ত, সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, শহীদুল্লাহ হল ক্রসিং, ঢাকা মেডিকেল প্রশাসনিক ভবনের সামনে, জগন্নাথ হল ক্রসিং, বকশি বাজার ক্রসিং, পলাশী ক্রসিং, নীলক্ষেত ক্রসিং, কাঁটাবন ক্রসিং, আজিজ সুপার মার্কেটের সামনে এবং বিসিএস একাডেমি গলিতে বেরিকেড থাকবে।

ধানমন্ডি রবীন্দ্র সরোবর কেন্দ্রিক বেরিকেডগুলো থাকবে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের পুব পাশ, রাসেল স্কোয়ার, তাকওয়া মসজিদ, ধানমন্ডি রোড নং ৬/এ, ধানমন্ডি ৭/এ, ধানমন্ডি ৮/এ, ধানমন্ডি ৮ নং ব্রিজের উভয় পাশ, জিগাতলা মোড় এবং আবাহনী মাঠের পাশে বেরিকেড থাকবে।

ডাইভারশন পয়েন্ট গুলো হচ্ছে-বাংলামোটর ক্রসিং, মগবাজার ক্রসিং, কাকরাইল চার্চ ক্রসিং, ইউবিএল ক্রসিং, জিরো পয়েন্ট ক্রসিং, গোলাপ শাহ মাজার, সরকারী কর্মচারী হাসাপতাল ক্রসিং, চাঙ্নারপুল ক্রসিং, বকশী বাজার ক্রসিং, পলাশী ক্রসিং, নীলক্ষেত ক্রসিং, কাঁটাবন ক্রসিং।

গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা থাকবে ঢাকার উত্তর দিক থেকে আসা যানবাহন সমূহ নেভি হাউজ হতে হলি ফ্যামিলি এলাকায় পার্কিং করবে। পূর্ব দিক থেকে আসা যানবাহনসমূহ জিরো পয়েন্ট হতে আব্দুল গনি রোডে পার্কিং করবে। পুব দিক থেকে আসা যানবাহন সমূহ মৎস্য ভবন  হতে সেগুন বাগিচা কার্পেট গলিতে। দক্ষিণ অথবা পশ্চিম দিক থেকে আসা যানবাহন জগন্নাথ হল থেকে পলাশীতে, পশ্চিম দিক থেকে আসা যানবাহন আজিজ সুপার মার্কেটের পাশের রাস্তা অথবা নালার পাড়ে পার্কিং করবে।

এ সময় বিকল্প রুটগুলো হবে বাংলামোটর-মগবাজার-রমনা থানা ক্রসিং-বেইলি রোড ক্রসিং-কাকরাইল চার্চ ক্রসিং-রাজমনি-নাইটেঙ্গল অথবা ফকিরাপুলের রাস্তা।

কাঁটাবন-হাতিরপুল-বাংলামোটর-সোনারগাওঁ রুটের গাড়ির ফার্মগেট অথবা মগবাজারের রুট ব্যবহার করতে হবে।

কাঁটাবন-নীলক্ষেত মোড়-পলাশী-ঢাকেশ্বরী মন্দির-বকশি বাজার- চানখারপুল-ফুলবাড়িয়া রুটের যানবাহন সমূহকে গুলিস্থান অথবা সদরঘাটের রুট ব্যবহার করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, ডিবির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার(ট্রাফিক) মিলি বিশ্বাস প্রমুখ।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এনএইচ/কেজেএইচ

নিউজবাংলাদেশ.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়