সিইসির কথা না শুনেই বেরিয়ে গেলেন প্রার্থীরা
ঢাকা: প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) বক্তব্য না শুনেই বেরিয়ে গেলেন মেয়র প্রার্থীরা । রোববার দুপুরে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ ঘটনা ঘটে।
এসব প্রার্থীরা হলেন-আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আনিসুল হক, বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তাবিথ আউয়াল, বিকল্প ধারা বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাহি বি চৌধুরী, জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী বাহাউদ্দিন বাবুল, খান মুহাম্মাদ মজলিশ প্রমুখ।
এ সময় ইসি সচিব সিরাজুল ইসলাম মাইক্রোফোনে সিইসির বক্তব্য শুনতে বারবার অনুরোধ করলেও সে অনুরোধ রাখেননি অনেকে। এছাড়া কাউন্সিলর প্রার্থীরা তাদের মতামত দিতে না পেরে উত্তেজিত হয়ে এর আগেই বেরিয়ে যান।
পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ তার বক্তব্যে নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে যা যা করা দরকার তাই করা হবে বলে মন্তব্য করেন । এসময় তিনি আইনভঙ্গকারী কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলেও জানান।
সিইসি তার বক্তব্যে বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আগে থেকেই বলা আছে, প্রয়োজনে আবারও বলছি ভোটাররা যাতে করে নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারে তার জন্য প্রশাসনিকভাবে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করার লক্ষে ভোট কেন্দ্রে প্রার্থীদের প্রতিনিধিদল, সাংবাদিক, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ দলের সামনেই ভোট গননা করা হবে। ইতিপূর্বে আমরা ৬টি সিটি নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করেছি। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে প্রার্থী এবং ভোটাররা আমাদের সহযোগিতা করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাই আমি এবারো আশা করবো পূর্বের দৃষ্টান্ত সবাই বজায় রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।”
এর আগে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আনিসুল হক বলেন, “সব প্রার্থীরা যেন মিডিয়া কভারেজ পায় সে বিষয়টির প্রতি নজর দিতে হবে। কেউ পাবে আর কেউ পাবে না, এমনটি হওয়া উচিত না।”
বিএনপি সমর্থিত তাবিথ আউয়াল অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযানের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “পুলিশের হয়রানির কারণে অনেক নেতাকর্মী এখনো আত্মগোপনে আছেন। তাই নির্বাচনের আগে তাদের জামিনের ব্যবস্থা করা যায় কিনা তা সিইসি দেখবেন।”
এদিকে মতবিনিময় সভায় বৈষম্যমূলক মিডিয়া কভারেজ দেয়ার অভিযোগ তুলে হট্টগোল করেন প্রার্থীরা। মেয়র প্রার্থী আনিসুজ্জামান খোকন বলেন, “অনেক প্রার্থী আছেন যারা দলীয় ব্যানারের কারণে বেশি মিডিয়া কভারেজ পাচ্ছেন। আর আমরা যারা সাধারণ প্রার্থী একটা প্রেস রিলিজ দেয়ার পরও মিডিয়া থেকে কোনো ধরনের প্রতিক্রয়া পাই না।”
তিনি বলেন, “এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা বেশি মিডিয়া কভারেজ পাচ্ছেন। যাদের টাকা বেশি আছে তারা দেদারসে টাকা খরচ করছেন। কিন্তু এ নিয়ে নির্বাচন কমিশন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।”
এসময় তার বক্তেব্যে প্রতি সমর্থন জানায় মেয়র প্রার্থী নাদের চৌধুরী, মাহি বি চৌধুরী, জোনায়েদ সাকি ও আব্দুল্লাহ আল ক্কাফি।
বেশ কয়েকজন প্রার্থী এ কথায় সমর্থন জানিয়ে বলেন, সিটি নির্বাচন নির্দলীয়। কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অন্য সাধারণ প্রার্থীর চাইতে মিডিয়ায় তাদের নিয়ে বেশি প্রচার-প্রচারণা হয়। সরকার দলীয় প্রার্থী প্রশাসন ব্যবহার করে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করছে।
এমন বক্তব্য শুনে মিলনায়তনে প্রার্থী ও সমর্থকরা দুই পক্ষে বিভক্ত হয়ে হট্টগোল শুরু করে। বেশ কিছুক্ষণ এ অবস্থা চলার পর ইসির প্রতিনিধিরা পরিস্থিতি শান্ত করেন।
মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ, আবু হাফিজ, জাবেদ আলী, মোবারক হোসন, ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহ আলম প্রমুখ।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএ/এএইচকে
নিউজবাংলাদেশ.কম








