বৈসু-সাংগ্রাই-বিজুর শোভাযাত্রায় লাঠিপেটা টিয়ার শেল নিক্ষেপ
খাগড়াছড়ি: প্রশাসনের অনুমতি না নেয়ায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বৈসু-সাংগ্রাই-বিজুর শোভাযাত্রায় বাধা দিয়েছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। এসময় লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল নিক্ষেপ এবং একজনকে আটক করা হয়েছে। রাবার বুলেটও নিক্ষেপের অভিযোগ করেছেন হয়েছে আয়োজনকারীদের।
রোববার খাগড়াছড়ি শহরে এ ঘটনা ঘটে।
সার্বজনীন বৈসাবি উদযাপন কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত শোভাযাত্রায় অংশ নিতে আসা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী-পুরুষকে পুলিশ ও সেনাবাহিনী শহরের কয়েকটি পয়েন্টে বাধা দেয়। জিরোমাইল, কুরাদিয়াছড়া, বিজিতলা, ভাইবোনছড়া থেকে আগত শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের জেলা পরিষদ ভবনের সামনে বাধা দিয়ে আটকে রাখে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। সকাল ১০টার দিকে শহরের মধুপুর বাজার থেকে শোভাযাত্রা বের করতে চাইলে সেখানেও বাধা দেয়া হয়। এসময় পুলিশ লাঠিপেটা ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সদস্য এল্টন চাকমাকে আটক করে নিয়ে যায়। এছাড়া রাবার বুলেট ছোঁড়ার অভিযোগও করে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোকজন।
এ বিষয়ে খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার শেখ মো. মিজানুর রহমান জানান, শোভাযাত্রা আয়োজনকারীরা প্রশাসনের অনুমতি নেয়নি এবং অংশগ্রহণে আসা নারী-পুরুষ ভাঙাচোরা চাঁদের গাড়িতে করে আসায় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় বাধা দেয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, “তাদেরকে বলা হয়েছিল পদযাত্রার মাধ্যমে শোভাযাত্রা করার জন্য। কিন্তু তারা আমাদের কথা শোনেনি। এক পর্যায়ে মধুপুর বাজারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিপেটা ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করতে বাধ্য হয়। রাবার বুলেট নিক্ষেপ করা হয়নি।
এল্টন চাকমাকে আটকের ব্যাপারে এসপি জানান, তার নামে দুটি মামলা ছিল। এসপির ভাষ্য “মামলার আসামি হয়ে সে যদি লাফালাফি করে তাহলে তাকে পুলিশতো আটক করবেই।”
নির্ধারিত সার্বজনীন সামাজিক উত্সবে প্রশাসনের অনুমতি কেন- এ প্রশ্নের জবাবে এসপি জানান, ৭-৮ তারিখ থেকে জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন বৈসাবির অনুষ্ঠান করেছে। প্রত্যেকে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে করেছে। সামাজিক উত্সব হলেও বিভিন্ন ধরনের নাশকতা এড়াতে প্রশাসনের অনুমতির প্রয়োজন আছে।
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সার্বজনীন বৈসাবি উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক মিলন দেওয়ান মনাঙ বলেন, “একটা সামাজিক কর্মসূচিতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের এ ধরনের হামলা আদিবাসীদের সংস্কৃতির ওপর আঘাত ছাড়া কিছু নয়। আদিবাসীদের সংস্কৃতিকে সমূলে বিলুপ্ত করার জন্যই প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে হামলা করেছে।”
নিউজবাংলাদেশ.কম/এফএ
নিউজবাংলাদেশ.কম








