পহেলা বৈশাখ
সিরাজগঞ্জ থেকে শত কোটি টাকার শাড়ি যাচ্ছে ভারতে
সিরাজগঞ্জ: কিছুদিন পরই আবহমান বাঙালির নববর্ষ পহেলা বৈশাখ। সব ধর্মের মানুষ বিভেদ ভুলে উৎসবের এদিন সবাই মিশবে এক কাতারে। পাশ্চাত্যের আধুনিক পোশাক ও খাবার ছেড়ে প্রত্যেকের পরনেই থাকবে বাঙালিয়ানার বাহারি পোশাক। এদিনের পোশাকে পুরুষের পছন্দ যেমন পাঞ্জাবি-পাজামা, ফতুয়া। তেমনি নারীদের প্রজাপতি, ঢাক-ঢোল, কুলা, ঘুড়িসহ বাঙালির ঐতিহ্যের প্রতীক সম্বলিত নকশা করা লাল পেরে সাদা শাড়ি লাগবেই। এজন্য এই শাড়ির ব্যাপক চাহিদার কারণে সিরাজগঞ্জের হাজার-হাজার তাঁতি দিনরাত এখন নানা রঙের বৈশাখি শাড়ি তৈরিতে ব্যস্ত। এবার সিরাজগঞ্জ থেকে ভারতে শাড়ি রপ্তানির পরিমাণ হবে শত কোটি টাকা।
সিরাজগঞ্জের শাড়িতে এবার থাকছে আরো নতুনত্ব। তিনশ টাকা থেকে শুরু করে দুহাজার টাকা মূল্যের এসব শাড়ি ইতিমধ্যেই ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থান দখল করে নিয়েছে। এদিকে ভারতের তৈরি শাড়ির তুলনায় এখানকার শাড়ি আধুনিক ডিজাইন ও উন্নত মানের হওয়ায় এ উৎসবে রপ্তানি হবে শত কোটি টাকার শাড়ি- এমন আশাবাদ তাঁতিদের।
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে এলাকার তাঁতে উৎপাদিত বৈশাখি কটন, জামদানি, সিল্ক, চোষা, ব্লক ও স্কিন প্রিন্ট শাড়ির ব্যাপক চাহিদা এবার ভারতে। কারণ এসব বস্ত্র সে দেশের সুতি কাপড়ের চেয়ে উন্নত, টেকসই, আধুনিক নকশা এবং কম মূল্য হওয়ার কারণে কোটি-কোটি টাকার শাড়ি এবারের বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে রপ্তানি হচ্ছে। বিশেষ করে এলাকায় যেসব শাড়ি ১৫শ টাকায় তৈরি হয় ঐসব জামদানি শাড়ি ভারতে বিক্রি হচ্ছে ১৮শ থেকে দুহাজার টাকায়।
জাতীয় কারুশিল্পী পুরস্কারপ্রাপ্ত জেলার এনায়েতপুর থানার খামার গ্রামের ‘টাঙ্গাইল তাঁত বাজার’ কারখানার মালিক আফজাল হোসেন লাভলু এবং তোফাজ্জল হোসেন বাবুল বলেন, “তাঁতিদের এখন ভাগ্য খুলে গেছে। বৈশাখ উপলক্ষে ভারতের বেপারিরা তাদের কাছে কোটি টাকার শাড়ি চেয়েছিল। কিন্তু ভারতে বাংলা টাকার মান বেড়ে যাওয়ায় লাভ একটু কম হবে। তবে চাহিদা গত বছরের চেয়ে বেশি। তাদের এবার প্রায় ৩০ লাখ টাকার শাড়ি ভারতের বেপারিরা এসে কিনে নিয়ে গেছে।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী তাঁত বিশেষজ্ঞ আকতারুজ্জামান তালুকদার, সিরাজগঞ্জ একুশে ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আলামিন এবং কাপড় ব্যবসায়ী ফজলুল হক ডনু জানান, শুল্কমুক্তভাবে এদেশীয় তাঁত বস্ত্র ভারতীয় বাজারে প্রবেশের দাবি সিরাজগঞ্জের তাঁতিদের দীর্ঘদিনের হলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি।
তিনি বলেন, “শুধু সিরাজগঞ্জ থেকেই গত ঈদ ও বৈশাখ মিলে প্রায় আড়াইশ কোটি টাকার তাঁত বস্ত্র ভারতে রপ্তানি হয়েছে। আর এ ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। তাই ভারতসহ অন্যান্য দেশে শুল্কমুক্ত প্রবেশের ব্যবস্থা থাকলে তাঁতিদের পাশাপাশি সরকারও বেশি রাজস্ব পেত।”
বৈশাখি শাড়ি তৈরির এই মৌসুমে জেলায় পাঁচশতাধিক স্কিন প্রিন্ট কারখানা গড়ে উঠেছে। প্রতি কারখানায় প্রতিদিন গড়ে নকশা হচ্ছে চারশতাধিক শাড়ি। এতে কর্মসংস্থান হয়েছে আরো প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের। এ কারখানার সঙ্গে সম্পৃক্ত এনায়েতপুরের গোপীনাথপুর গ্রামের সৈয়দ হোসেন ও আনোয়ার হোসেন জানান, গত ৬ বছর ধরে শুরু হওয়া এ ব্যবসায় এবার সবচেয়ে চাহিদা বেশি। ২০ টাকা করে প্রতি শাড়ি স্কিন প্রিন্ট করে প্রতিদিন গড়ে তারা হাজার টাকা আয় হচ্ছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এফএ
নিউজবাংলাদেশ.কম








