দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীদের ওপর হামলা, নিহত ৫
দক্ষিণ আফ্রিকায় ধারাবাহিকভাবে অভিবাসীদের ওপর হামলার ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছে। বিদেশি মালিকানাধীন দোকান পাট ও ঘরবাড়িতে স্থানীয়রা হামলা চালিয়ে লুটপাট চালাচ্ছে বলে বিবিসি জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট জেকব যুমা বিদেশিদের বিরুদ্ধে এই সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে শান্তির ডাক দিয়েছেন।
জোহানেসবার্গে হামলাকারী স্থানীয়দের জমায়েত এবং বিদেশী মালিকানাধীন দোকান-পাটের মাঝখানে অবস্থান নিয়ে ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছে পুলিশ। শেষখবর পাওয়া পর্যন্ত শহরটিতে কার্যত অচলাবস্থা বিরাজ করছিল।
জোহানেসবার্গের পূর্বাঞ্চলীয় এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বিদেশি মালিকানাধীন দোকানে স্থানীয়রা হামলা চালায়। এসময় অন্তত ২০০ অভিবাসী আতঙ্কে পুলিশ স্টেশনে আশ্রয় নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোড়ে। এসময় ১২ জন হামলাকারীকে আটক করে পুলিশ। 
বিবিসি জানায়, স্থানীয়দের কর্মক্ষেত্র অভিবাসীরা নিয়ে নিচ্ছে অভিযোগ তুলে এসব হামলা চালানো হচ্ছে। বিদেশিদের ওপর এসব হামলার প্রতিবাদে দক্ষিণ আফ্রিকার পূর্বাঞ্চলীয় শহর ডারবানে বৃহস্পতিবার হাজার হাজার মানুষ এক বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নিয়েছেন।
সাম্প্রতিক এই হামলার কারণে আতঙ্কে অনেক বিদেশি দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে চলে যাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। দেশটি থেকে নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মালাউয়ির সরকার। মোজাম্বিক তাদের পালিয়ে আসা নাগরিকদের জন্য সীমান্তে শিবির খুলেছে।
গত কয়েক সপ্তাহে জোহানেসবার্গ, ডারবানসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে বিদেশিদের ওপর একের পর এক হামলার ঘটনায় অভিবাসীদের মধ্যে ভয়ের সাথে সাথে তৈরি হয়েছে ক্ষোভ। সহিংসতা আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ভুগছেন অনেকে। জোহানেসবার্গে ইথিওপীয়, এবং সোমালীয়রা লুঠপাটের ভয়ে তাদের দোকান বন্ধ রাখছে।
১৯৯৪ সালে দেশটিতে শেতাঙ্গ বর্ণবাদী শাসনের অবসানের পর থেকে আফ্রিকা এবং এশিয়া মহাদেশ থেকে লাখ লাখ লোক কাজের খোঁজে সেখানে পাড়ি জমায়। স্থানীয় কৃষ্ণাঙ্গ দক্ষিণ আফ্রিকানদের সঙ্গে ক্রমেই ভাগ্যান্বেষণে আসা অভিবাসীদের কর্মক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা প্রকট হয়ে উঠতে থাকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ বিদেশিরা এসে তাদের কাজ নিয়ে নিচ্ছে। এ মুহুর্তে দক্ষিণ আফ্রিকায় বেকারত্বের হার ২৪ শতাংশ অর্থাৎ কর্মক্ষম মানুষের ২৪ জনই বেকার।
এর আগে ২০০৮ সালে বিদেশিদের ওপর হামলায় অন্তত ৬২ জনের মুত্যু হয়েছিল।
জুলু সম্প্রদায়ের রাজা বা গোষ্ঠী প্রধানকে বিদেশিদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক এই হামলায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
জুলু রাজার বিরুদ্ধে সহিংসতা উস্কে দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করা হবে বলে বিবিসিকে জানিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকার কমিশন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসজে
নিউজবাংলাদেশ.কম








