দেশজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বড়দিন
ছবি: সংগৃহীত
খ্রিস্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিস্টের জন্মতিথি ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘শুভ বড়দিন’ আজ বৃহস্পতিবার। বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তের মতো বাংলাদেশেও যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা, আনন্দ-উৎসব এবং শান্তির প্রার্থনা নিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। দুই সহস্রাধিক বছর আগে ফিলিস্তিনের বেথলেহেমের এক গোয়ালঘরে মাতা মেরির গর্ভে জন্ম নিয়েছিলেন যিশু, যাঁর মূলবাণী ছিল মানবজাতির মুক্তি, শান্তি এবং ন্যায়ের পথে পরিচালনা।
বড়দিন উপলক্ষ্যে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা উপস্থিত খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দকে বড়দিন ও আসন্ন নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, আর্চবিশপ বিজয় এন ডি’ক্রুজ, বিশপ ফিলিপ পি অধিকারীসহ খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে ড. মুহাম্মদ ইউনূস জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে ‘জুলাই সনদ’ তৈরির কথা উল্লেখ করে বলেন, এটি একটি সুস্থ সমাজ গড়ার ভিত্তি। আগামী নির্বাচনে সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট অনুষ্ঠিত হবে এবং জনগণের রায়ের ভিত্তিতেই পরবর্তী সংস্কার কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তিনি জনগণকে সচেতন করতে ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
বড়দিন উপলক্ষ্যে খ্রিস্টধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে আড়াই কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে ধন্যবাদ জানান ট্রাস্টের নেতারা।
তারা জানান, এই অনুদান সারা দেশের ৮০০টি চার্চের মধ্যে তিন ধাপে বিতরণ করা হচ্ছে। শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে প্রধান উপদেষ্টা খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে বড়দিনের কেক কাটেন।
পৃথক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস খ্রিস্টধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: বড়দিনে খ্রিস্টান নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় প্রধান উপদেষ্টার
এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এই সৌহার্দ্যকে আরও সুদৃঢ় করে সবাইকে আধুনিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার অগ্রযাত্রায় শামিল হতে হবে।
যিশুখ্রিস্টকে ‘আলোর দিশারি’ উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বর্তমান সরকার ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে কাজ করছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানিয়ে সবার সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ের পবিত্র জপমালা রানীর গির্জা এবং মোহাম্মদপুরের সেন্ট ক্রিস্টিনা চার্চসহ সারা দেশের গির্জাগুলো আজ সেজেছে নতুন আঙ্গিকে।
তেজগাঁও গির্জা: বড়দিনের বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টা এবং সকাল ৯টায়।
মোহাম্মদপুর সেন্ট ক্রিস্টিনা চার্চ: এখানে বিশেষ প্রার্থনা শুরু হবে সকাল ৮টায়।
ফাদার কাজল পিউরিফিকেশন ও ফাদার জয়ন্ত এস গোমেস জানান, এবারের বিশেষ প্রার্থনা হবে দেশের স্থিতিশীলতা, শান্তি এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য। রাজধানীর পাঁচতারকা হোটেল সোনারগাঁওসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে প্রতীকী গোশালা, রঙিন আলোকসজ্জা এবং ক্রিসমাস ট্রি স্থাপন করা হয়েছে। ছোটদের জন্য থাকছে সান্তাক্লজের নানা উপহার।
বড়দিন উদযাপনকে কেন্দ্র করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দিবসটিতে রাজধানীজুড়ে আতশবাজি, পটকা ফোটানো, ফানুস ওড়ানো এবং গ্যাস বেলুন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
যিশুখ্রিস্টের আদর্শের মূলমন্ত্র ‘ক্ষমা ও মানবসেবা’ ধারণ করে দেশের খ্রিস্টভক্তরা আজ আনন্দঘন পরিবেশে বড়দিন উদযাপন করছেন। আজ বড়দিন উপলক্ষ্যে সারা দেশে সরকারি ছুটি।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








