News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:৩২, ১৬ মার্চ ২০২৬

ইবাদত ও মঙ্গলের রাত শবে কদর

ইবাদত ও মঙ্গলের রাত শবে কদর

ফাইল ছবি

আজ সোমবার (১৬ মার্চ) সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবে কদর। রমজান মাসের শেষ দশকের এই মহিমান্বিত রাত সারা দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে গভীর আধ্যাত্মিক ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালিত হবে। লাইলাতুল কদরকে ইসলামে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়; পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে, এ রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়ে উত্তম।

মুসলমানরা বিশ্বাস করেন, এই রাতে মহান আল্লাহর অশেষ রহমত, বরকত ও মাগফিরাত নাজিল হয়। এছাড়া মানবজাতির জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে এ রাতে পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয়েছিল। তাই দেশজুড়ে মুসলিমরা এই রাতটি ইবাদত-বন্দেগি, নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আসকার, মিলাদ মাহফিল ও দোয়া-মোনাজতের মাধ্যমে অতিবাহিত করবেন।

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদে রাতভর ওয়াজ মাহফিল, আখেরি মোনাজাত ও ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আজ বাদ মাগরিব বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে বিশেষ আলোচনা সভা ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। সভায় লাইলাতুল কদরের ফজিলত, গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরবেন সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মুহাম্মদ মিজানুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খান এবং সভাপতিত্ব করবেন দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জানিয়েছেন, বিভাগের জেলা কার্যালয়, ইসলামিক মিশন কেন্দ্র ও ইমাম প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমিতেও একই ধরনের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে।

অনেক মুসল্লি মসজিদে ইতেকাফ পালন করছেন। অন্যরা বাসা-বাড়িতে নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়া-মোনাজতে সময় কাটাবেন। এ ছাড়া কিছু মুসলিম কবরস্থানে গিয়ে প্রিয়জনদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করবেন।

আরও পড়ুন: ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায়

শবে কদর ফারসি ভাষা থেকে উদ্ভূত, যেখানে ‘শব’ অর্থ রাত এবং ‘কদর’ অর্থ মর্যাদা, সম্মান, ভাগ্য বা সম্ভাবনা। আরবিতে একে বলা হয় লাইলাতুল কদর, যার অর্থ মহিমান্বিত রাত। এই রাতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুসারীদের মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয় এবং মানবজাতির ভাগ্য নির্ধারণ করা হয়। বিশেষভাবে রমজান মাসের শেষ দশকের বিজোড় রাতে বিশেষ করে ২৬ রমজানের দিবাগত রাত শবে কদরের আগমনের সম্ভাবনা বেশি।

পবিত্র কোরআনে সূরা ‘আল-কদর’-এ বলা হয়েছে, “কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।” তাই এ রাতে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে অতিরিক্ত সওয়াব, নাজাত, বরকত ও মাগফিরাত লাভ করা যায়।

শবে কদর উপলক্ষ্যে আগামীকাল ২৭ রমজান (১৭ মার্চ, মঙ্গলবার) দেশে সরকারি ছুটি থাকবে। দেশের টেলিভিশন ও রেডিও চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচারের মাধ্যমে রাতের তাৎপর্য তুলে ধরছে। সংবাদপত্রগুলোতেও বিশেষ নিবন্ধ ও সম্পাদকীয় প্রকাশ করা হয়েছে।

পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসী ও বিশ্বের মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন। তিনি বাণীতে লাইলাতুল কদরের অসীম রহমত ও বরকত কামনা করে সবাইকে ইবাদত, দোয়া ও মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। 

প্রধানমন্ত্রীর মতে, শবে কদরের শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় প্রেরণা যোগায়।

এইভাবে, বাংলাদেশের মুসলমানরা আজ সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া এই মহিমান্বিত রাতটিকে গভীর আধ্যাত্মিক ভাবগাম্ভীর্য ও ধর্মীয় মর্যাদার সঙ্গে উদযাপন করবেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়