জোট বিতর্কে এবার এনসিপি থেকে ডা. তাজনুভা জাবীনের পদত্যাগ
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাজনূভা জাবীন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি অংশগ্রহণ করবেন না।
রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে তিনি ঢাকা-১৭ আসন থেকে এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন।
ফেসবুক পোস্টে ডা. তাজনূভা জাবীন স্পষ্ট করে বলেন, জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাওয়াই তার পদত্যাগের একমাত্র কারণ নয়; বরং যে প্রক্রিয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেটিই তার আস্থাহীনতার প্রধান কারণ।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সারাদেশ থেকে ১২৫ জনকে মনোনয়ন সংগ্রহের সুযোগ দিয়ে শেষ মুহূর্তে মাত্র ৩০টি আসনের জন্য সমঝোতার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার ফলে বাকিদের কার্যত নির্বাচন থেকে বাইরে রাখা হয়েছে। এমনকি স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করার সুযোগও পরিকল্পিতভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মনোনয়ন হারানোর আশঙ্কায় তিনি জোটের বিরোধিতা করছেন—এমন দাবি ভিত্তিহীন। আগেই তিনি জানিয়েছিলেন, তার আসনে কোনো সমঝোতা হলে তিনি নির্বাচন করবেন না।
তিনি আরও বলেন, এনসিপির কোনো জেনারেল বা নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত ছিল না যে জোট হলে বাকি আসনের প্রার্থীদের বসে যেতে হবে কিংবা জামায়াতের পক্ষে প্রচারে নামতে হবে।
ডা. তাজনূভা জাবীনের অভিযোগ, এনসিপি যে গণপরিষদ, দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র, মধ্যপন্থা, নারী ও জাতিসত্তাভিত্তিক রাজনীতির কথা বলছে, বাস্তবে তার চর্চা হচ্ছে না।
তিনি নিজেকে দলের একজন ফাউন্ডার মেম্বার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আদর্শের জায়গায় বিশ্বাস ভেঙে পড়ায় দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।
আরও পড়ুন: ‘জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতায় ‘কঠিন মূল্য’ চুকাতে হবে এনসিপিকে’
তার ভাষায়, দলের ভেতরে শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ‘মাইনাসের রাজনীতি’ চলছে, যা ভবিষ্যতে একটি মধ্যপন্থি বাংলাদেশপন্থি রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার পথে বড় বাধা।
জামায়াতের সঙ্গে জোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এনসিপি যদি আগে নিজস্ব স্বকীয়তা ও রাজনৈতিক অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারত, তবে ভবিষ্যতে যে কোনো জোট নিয়ে আলোচনা করা যেত। কিন্তু প্রথম নির্বাচনে এমন জোটে যাওয়া রাজনৈতিকভাবে পরিকল্পিত চাপের ফল।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, যেখানে এনসিপিকে ‘জামায়াতের আরেকটি দোকান’ বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে, সেখানে কেন আগে নিজস্ব রাজনীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা না করে ক্ষমতায় যাওয়ার তাড়নায় জামায়াতকে বেছে নেওয়া হলো।
পোস্টে ডা. তাজনূভা জাবীন জানান, পদত্যাগের ফলে তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি তার জন্য অত্যন্ত কষ্টের বলে উল্লেখ করে তিনি লেখেন, নির্বাচন উপলক্ষে তার মা চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসছিলেন, আর সেদিনই তাকে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
ডা. তাজনূভা জাবীন জানান, তার নির্বাচনী প্রচারণার জন্য যারা আর্থিক অনুদান দিয়েছেন, প্রত্যেককে তিনি ধাপে ধাপে সেই অর্থ ফেরত দেবেন। এ বিষয়ে শিগগিরই বিস্তারিত জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রাজনীতি ছাড়ছেন না এমন বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা থেকেই তিনি রাজপথে নেমেছিলেন এবং গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে তার কণ্ঠ আরও জোরালোভাবে উচ্চারিত হবে। মধ্যপন্থি, বাংলাদেশপন্থি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের শূন্য জায়গা পূরণের চেষ্টাও তিনি চালিয়ে যাবেন।
উল্লেখ্য, এর একদিন আগে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








