News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:৩৪, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

জামায়াতের সঙ্গে জোট প্রসঙ্গে এনসিপির ৩০ নেতার ‘লাল কার্ড’

জামায়াতের সঙ্গে জোট প্রসঙ্গে এনসিপির ৩০ নেতার ‘লাল কার্ড’

ফাইল ছবি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বড় ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীসহ ৮-দলীয় জোটের সঙ্গে সম্ভাব্য রাজনৈতিক আসন সমঝোতা বা জোট গঠনের খবরে দলের শীর্ষ পর্যায়ের ৩০ জন কেন্দ্রীয় নেতা লিখিতভাবে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। 

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে পাঠানো এক চিঠিতে এই উদ্বেগের কথা জানান তারা।

এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন সংবাদমাধ্যমকে চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চিঠিতে নেতারা দাবি করেছেন, জামায়াতের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা হলে তা দলের আদর্শিক অবস্থান এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা হবে।

চিঠিতে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের বিগত এক বছরের কর্মকাণ্ডকে ‘বিভাজনমূলক’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। 

নেতাদের অভিযোগ, জামায়াত ও তাদের অনলাইন ফোর্স এনসিপির নারী সদস্যদের চরিত্রহননের চেষ্টা করেছে এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোতে (বাগছাস ও ছাত্রশক্তি) অপপ্রচার চালিয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলো:

  • ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ: ধর্মকে কেন্দ্র করে সামাজিক ফ্যাসিবাদের উত্থানের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, যা দেশের জন্য ‘অশনিসংকেত’ হিসেবে দেখছেন নেতারা।
  • ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা: ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকা ও গণহত্যার সহযোগিতার ইতিহাস এনসিপির মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
  • গোয়েন্দাগিরি ও স্যাবোটাজ: অন্যান্য দলের ভেতরে গুপ্তচরবৃত্তি এবং এনসিপির ওপর অপকর্মের দায় চাপানোর অপচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।

আরও পড়ুন: এনসিপি ত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা, ফেরত দেবেন গণচাঁদা

এনসিপির শীর্ষ নেতারা এর আগে ৩০০ আসনে স্বতন্ত্রভাবে লড়াই করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। চিঠিতে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় যে, প্রায় ১,৫০০ মনোনয়নপত্র বিক্রির পর ইতোমধ্যে ১২৫ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এমতাবস্থায় মাত্র কয়েকটি আসনের জন্য জামায়াতের মতো দলের সঙ্গে জোটে যাওয়াকে ‘জাতির সঙ্গে প্রতারণা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন স্বাক্ষরকারী নেতারা।

চিঠি থেকে জানা যায়, নীতিগত অবস্থানের ভিত্তিতে কৌশল নির্ধারিত হওয়া উচিত, কৌশলগত কারণে নীতিগত অবস্থান বিসর্জন দেওয়া উচিত নয়। 

নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, জোটের খবর গণমাধ্যমে আসার পরপরই দলের প্রতি সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে তরুণ ও মধ্যপন্থী সমর্থকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও হতাশা তৈরি হয়েছে। অনেকেই সমর্থন সরিয়ে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এর ফলে এনসিপি তার নিজস্ব ‘মধ্যপন্থী রাজনৈতিক এজেন্সি’ হারিয়ে ফেলবে বলে চিঠিতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

মোট ৩০ জন কেন্দ্রীয় নেতার স্বাক্ষরিত এই চিঠিতে রয়েছেন খালেদ সাইফুল্লাহ (যুগ্ম আহ্বায়ক), মুশফিক উস সালেহীন (যুগ্ম সদস্যসচিব), নুসরাত তাবাসসুম (যুগ্ম আহ্বায়ক), নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও আরমান হোসাইন (কেন্দ্রীয় সংগঠক), খান মো. মুরসালীন (যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক), অর্পিতা শ্যামা দেব (যুগ্ম আহ্বায়ক), রফিকুল ইসলাম আইনী প্রমুখ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপির ভেতরে এই অভ্যন্তরীণ বিরোধ দলটির ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে নাহিদ ইসলাম এই চিঠির প্রেক্ষিতে কী সিদ্ধান্ত নেন, তার ওপর নির্ভর করছে দলটির ঐক্য।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়