বিমানবন্দরে তারেক রহমানকে স্বাগত জানালেন বিএনপি নেতাকর্মীরা
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ পর দেশে ফিরলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে তাকে বহনকারী বিমান। তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
তার আগের ধাপের যাত্রা শুরু হয়েছিল লন্ডন হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে। বাংলাদেশের আকাশে প্রবেশের পর বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৩৪ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি লিখেছেন, “দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর বাংলাদেশের আকাশে!”
তারেক রহমানকে বহনকারী বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ বিজি-২০২ বোয়িং ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৯০০ ফ্লাইটে লন্ডন–সিলেট–ঢাকা রুটে যাত্রা করেছে। সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে, প্রায় এক ঘণ্টার গ্রাউন্ড টার্নঅ্যারাউন্ডের পর সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। ফ্লাইটে তারেক রহমানের জন্য বিশেষভাবে এ-১ সিট বরাদ্দ করা হয়েছে।
উড়োজাহাজে তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, ব্যক্তিগত সচিব আব্দুর রহমান সানি, দলের প্রেস উইংয়ের সালেহ শিবলী, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের কামাল উদ্দীন, সৈয়দ মইনউদ্দিন আহমেদ ও তাবাসসুম ফারহানা।
আরও পড়ুন: ঢাকায় পৌঁছেছেন তারেক রহমান
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সিনিয়র নেতারা ভিআইপি লাউঞ্জে তারেক রহমানকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান।
উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেলসহ অন্যান্য সিনিয়র নেতা।
এরপর সরাসরি তিনি যান রাজধানীর পূর্বাচল এলাকার ‘৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে’ (সাবেক ৩০০ ফিট) সংবর্ধনাস্থলে। এখানে দেশজুড়ে লাখ লাখ নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশবাসী অপেক্ষমাণ। তাকে একনজর দেখার জন্য, দুটি কথা শোনার জন্য। বাংলাদেশের ইতিহাসে আজ এক অবিস্মরণীয় ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। আমরা আশা করি, মুহূর্তটি আমরা ঐতিহাসিকভাবে পালন করতে পারব।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে তারেক রহমান যাবেন এভারকেয়ার হাসপাতালে, যেখানে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করবেন। এরপর সরাসরি গুলশান-২ নম্বরে নিজ বাসভবনে পৌঁছাবেন।
২০০৭ সালের জানুয়ারিতে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতির অভিযোগে প্রায় ১৮ মাস কারাবন্দী ছিলেন তারেক রহমান। মুক্তি পাওয়ার পর ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চিকিৎসার জন্য সপরিবারে লন্ডনে চলে যান। পরবর্তী সময়ে দেশে ফিরতে পারছিলেন না একাধিক মামলা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর অবশেষে প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে এলেন তিনি।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








