News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১০:৫০, ১৯ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ০৪:৪৯, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

যে গল্পের শেষ নেই

যে গল্পের শেষ নেই

সমাজ বা সংস্কৃতি একটা কোনো প্রপঞ্চ দিয়ে তৈরি নয়। এখানকার কনটেন্ট তৈরি হয়েছে হাজার বছর ধরে অভিযোজন করতে করতে। তা সে মানুষের সাথে বৃক্ষের, বৃক্ষের সাথে অন্যান্য প্রাণীকূলের অথবা ঝড়-ঝঞ্ঝার সাথে সকলের।

এতো গেল প্রাকৃতিক আলাপন। তারপর যখন ছোট ছোট গোত্রে সমাজবদ্ধ হয়ে মানুষেরা থাকতে শুরু করল। তৈরি করল ধর্ম, যার যার আলাদা ভাষা, খাদ্যাভ্যাস এবং দুটো আলাদা পরিচয় নারী এবং পুরুষ। এই নারী-পুরুষ জৈবিক সত্তা যেমন সত্য তেমন তার সাংস্কৃতিক সত্তাও সত্য। এরা পরস্পর পরস্পরের সাথে অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়, এবং শারীরিক সম্পর্কে যুক্ত। যেহেতু এতোগুলো ক্ষমতার এবং অনুভূতির সম্পর্ক এখানে কাজ করছে সেক্ষেত্রে পরস্পরের প্রতি বন্ধুতার সম্পর্ক যেমন অপরিহার্য তেমন পাওয়ার এক্সারসাইজের বিষয়টিও স্বাভাবিকভাবে চলে আসে। কে কাকে কী চোখে দেখে বা কীভাবে তার মূল্যায়ন হয়, একের প্রতি অপরের অনুভূতি, ব্যবহারিক সম্পর্ক এখানে কয়েকটি বিষয় দিয়ে সাধারণত নির্ধারিত হয়।

প্রথমত অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধ, যা হাজার বছর ধরে তৈরি হয়েছে মানব সমাজকে চালনার জন্য তা নারী-পুরুষের ভেতরকার মনস্তাত্ত্বিক কাঠামেকেও তৈরি করেছে। আর সেখানে যৌনতার প্রশ্নে এখানে পরস্পর যেমন ভালোবাসা এবং আকর্ষণ, শ্রদ্ধার সম্পর্কে যুক্ত একই সাথে নারী-পুরুষের সম্পর্কের মধ্যে তৈরি হয়েছে হিংস্রতা, নির্মমতার আরেকটি দিক। না এটা এমন নয় যে শুধু পুরুষই নারীর প্রতি আক্রমনকারী হয়ে ওঠে, এটা উভয়পক্ষ থেকেও ঘটে অনেকসময়। কারণ এই জটিল সম্পর্কটি মোটামুটি বেশিরভাগ মানুষের অভিজ্ঞতার সাথে যুক্ত। তবে পুরুষের আক্রমনাত্মক চিত্রই প্রকট, তার প্রতিক্রিয়া হিসেবে নারীকেও অনেক সময় আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে দেখা যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পহেলা বৈশাখে মেয়েরা যে ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হলেন তা নতুন কিছু নয় এবং এটা নানাভাবেই ঘটছে সমাজে। এর জন্য পুলিশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাষ্ট্রযন্ত্র নানাজনকে দায়ী করা হচ্ছে, যেন এরা সব তটস্থ থাকলেই পরিস্থিতি সবার জন্য স্বাভাবিক থাকবে বা থাকত ...। এখানে আসল বিষয় হচ্ছে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নারী-পুরুষ পরষ্পরের সাথে যে রিলেশন অব পাওয়ার জড়িত সেই বিষয়টি এবং একে অন্যকে কীভাবে গ্রহণ করে তার একটি উদাহরণ এই ঘটনা। পুলিশ, রাষ্ট্রযন্ত্র কেউ কিছু করতে পারবে না যতক্ষণ না মানুষের মনে সেল্ফ রেসপেক্ট তৈরি হয়। কারণ পাহারা দিয়ে সমাজকে খুব কমই মেইনটেন করা যায়... এটা একটা কালচারাল মনস্তাত্ত্বিক বিষয়। তার মানে এই নয় যে এখনকার সমাজ কাঠামোকে উঠিয়ে দিতে হবে। এটা একেকটা জাতির, সমাজের মানুষের স্কুলিং এবং ভ্যালুজের সাথে যুক্ত।

আমার নিজেরও এ ধরনেরর বহু এক্সপেরিয়েন্স আছে...। যেহেতু এই সমাজে আছি সেজন্য ঘটনার বাইরে থাকার সুযোগ কম।

... যখন কলেজে পড়ি ১৯৯২ সালে, বইমেলা থেকে বেরোনোর গেটে ভিড়ের মধ্যে আবিষ্কার করলাম মাটিতে পড়ে আছি এবং আহত... মানসিক এবং শারীরিকভাবে...। এ ঘটনা মনে করিয়ে দিল বাংলা এলাকায় নারী-পুরুষের প্রকৃত রিলেশন এবং সাইকোলজিকে... ক্ষমতার প্রাকটিসকে। তবে ধীরে ধীরে অনেক চিন্তার বদল ঘটছে সমাজের মনস্তত্ত্বের... এটা শুধু অসুস্থতা নয়...।

ছোটবেলা থেকেই আমাদের নানা ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। স্কুলে পড়ার সময়ে অনেক পুরুষ আত্মীয়, মামা-চাচা এরা আদর করার ছলে যৌনকাঙ্খার প্রকাশ ঘটায়। পরিবারের একজন সদস্যর মতো যাকে দেখা হয়, শিশুদের তার কাছেই হতে হয় নির্যাতনের শিকার। আমার এক বন্ধু ছোট বেলায় ফুপুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ফুপার দ্বারা যৌন আক্রমনের শিকার হয়। পরে সে মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়ে... এখনও তার চিকিৎসা চলছে।

এসব ঘটনার কোনো শেষ নেই। অনেকটা যে গল্পের শেষ নেইয়ের মতো...

বর্তমানে সাইবার যুগে শুরু হয়েছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভালগারিজম। ছবি, ফুটেজ, ভিডিও এবং ন্যক্কারজনক মেসেজের মাধ্যমে হয়রানি করা হচ্ছে মেয়েদের। আমার পরিচিত এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এ ধরনের কর্মকাণ্ড করেছেন, যা এই একই বিষয়ের পুনরাবৃত্তি অর্থাৎ সমাজে মেয়েদের যেভাবে ভোগ্যপণ্য হিসেবে দেখা হয়, সেভাবেই তার সাথে আচরণ করার নজির। আইন, নিয়ম করে একদিনে বা এক যুগেও এ প্রবণতা দূর করা সম্ভব নয়। এটা সমাজের মনস্তত্ত্ব। সমাজের ভেতরের রোগের চিকিৎসা যেদিন হবে তখন হয়তো দৃশ্য একটু বদলাতে পারে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসজে/এজে

কবি ও গল্পকার

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়