কেনিয়ায় আরো হত্যাকাণ্ড ঘটানোর হুমকি আল-শাবাবের
বিশ্ববিদ্যালয়ে হত্যাযজ্ঞ চালানোর দুই দিনের মাথায় কেনিয়ায় আরো হত্যাকাণ্ড ঘটানোর হুমকি দিয়েছে সোমালিয়ার জঙ্গি সংগঠন আল-শাবাব। গত বৃহস্পতিবার জঙ্গি সংগঠনটির মুখোশধারী সশস্ত্র সদস্যরা দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এক বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা চালিয়ে শিক্ষার্থীসহ ১৪৮ জনকে হত্যা করে।
কেনিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গারিসা বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলাকারী চার আল-শাবাব সদস্যের মৃতদেহ শনাক্ত করে আজ স্থানীয় এক প্রাইমারী স্কুলে নিয়ে যাওয়া হলে অধিবাসীরা ভীর করে।
কেনিয়ার নাগরিকদের উদ্দেশে গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে আল-শাবাবের পক্ষ থেকে দেশটিতে আরো হত্যাকাণ্ড ঘটানোর এ হুমকি দেয়া হয়।
এদিকে, গারিসা বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কেনিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের কয়েকজনকে প্রতিবেশী সোমালিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। গ্রেফতারকৃতদে মধ্যে একজন নিরাপত্তা প্রহরী।
গারিসা শহরেরই এক মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষক মোহামেদ মোহামুদ বিশ্ববিদ্যালয়ে হত্যাযজ্ঞের ঘটনার মূল হোতা বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। তাকে ধরিয়ে দিতে ২ লাখ ১৫ হাজার ডলারের সমপরিমাণ অর্থ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মোহামেদ মোহামুদ হামলায় অংশ না নিলেও এর পরিকল্পনা করেন। মৃদুভাষী, শান্ত মানুষ হিসেবে পরিচিত থাকলেও তিনি পরে জঙ্গি হয়ে উঠে আল-শাবাবে যোগ দেন।
কেনিয়ার নাগরিকদের উদ্দেশে দেয়া আল-শাবাবের বিবৃতিতে বলা হয়, "তোমাদের সরকার আমাদের মুসলিম ভাইদের হত্যা ও তাদের প্রতি অত্যাচার বন্ধ না করলে এবং কেনিয়ার সব মুসলিম অঞ্চল স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত কোনো কিছুই আমাদের প্রতিশোধ নেওয়া থেকে বিরত রাখতে পারবে না। ওই সময় পর্যন্ত কেনিয়ার শহরগুলো রক্তে লাল হতে থাকবে। এটা হবে দীর্ঘমেয়াদি ভয়াবহ যুদ্ধ।"
গারিসা বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার সময় সুনির্দিষ্টভাবে অমুসলিমরাই লক্ষ্য ছিল বলে বিবৃতিতে বলা হয়।
উল্লেখ্য, প্রতিবেশী সোমালিয়ায় ২০১১ সালে ইসলামি জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সেনা পাঠায় কেনিয়া। কেনিয়ার সেনারা সোমালিয়ায় মুসলিমদের হত্যা ও তাদের প্রতি অত্যাচার করছে বলে আল-শাবাবের অভিযোগ।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ওই হামলার পর জঙ্গিদের সতর্কবার্তা কেন উপেক্ষা করা হয়েছে সে ব্যাপারে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানিয় পত্রিকাগুলো জানায়, স্কুল বা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন্ন হামলার ব্যাপারে গোয়েন্দা তথ্য থাকার পরও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসজে
নিউজবাংলাদেশ.কম








