ভারতে ৪.৫ মাত্রার কম্পন ছড়িয়ে পড়ল বাংলাদেশের কাছে
ফাইল ছবি
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসাম এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাটে পৃথক দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫) বিকেলে ও সন্ধ্যায় অনুভূত এই কম্পনে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া না গেলেও দুই রাজ্যের বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে আসামের গুয়াহাটি ও গুজরাটের কুচ (Kutch) জেলায় মানুষ আতঙ্কে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।
ইউরোপিয়ান–মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, আসামে আঘাত হানা ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪.৫। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডে এই কম্পন অনুভূত হয়। ইএমএসসির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল আসামের ২৬.৮০১ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯২.৩৫৩ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে, যার কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার (৬.২ মাইল) গভীরে। ভৌগোলিকভাবে এর অবস্থান ছিল আসামের প্রধান শহর গুয়াহাটি থেকে প্রায় ৯১ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর-পূর্বে এবং ধেকিয়াজুলি শহর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিমে।
আরও পড়ুন: তাইওয়ানে ৬.১ মাত্রার ভূমিকম্প
অন্যদিকে, আজ একই দিনে ভারতের গুজরাট রাজ্যের কক্ষ জেলা ৪.৬ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) জানিয়েছে, গুজরাটের এই কম্পনটির পর বেশ কিছু আফটারশক বা অনুকম্পন অনুভূত হয়েছে। একের পর এক কম্পনে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়।
তবে প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসাম বা গুজরাট-কোথাও এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ভারতের এই অঞ্চলগুলোতে গত কয়েকদিন ধরেই দফায় দফায় ভূমিকম্প অনুভূত হচ্ছে। এর আগে গত ২৫শে ডিসেম্বর অরুণাচল প্রদেশে ৩.৪ মাত্রার এবং ২০শে ডিসেম্বর আসামে ৩.৮ মাত্রার দুটি মৃদু ভূমিকম্প হয়েছিল। এক সপ্তাহের ব্যবধানে একই অঞ্চলে বারবার কম্পন অনুভূত হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।
ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির তথ্যমতে, ভারতের প্রায় ৫৯ শতাংশ এলাকা ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। সংস্থাটি বর্তমান এই কম্পনগুলোকে স্বাভাবিক ভূ-তাত্ত্বিক প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করেছে এবং পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। আসাম ও গুজরাটের স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, তারা অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধারকারী দলগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








