তেলঙ্গানায় রাসায়নিক কারখানায় বিস্ফোরণে নিহত ৩৪
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের তেলঙ্গানা রাজ্যের সাঙ্গারেড্ডি জেলার পাসামিলারাম শিল্প এলাকায় একটি রাসায়নিক কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৩৪ জন নিহত এবং ৩৫ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (৩০ জুন) সকালে সিগাচি কেমিক্যালস নামক একটি ওষুধ তৈরির কারখানায় এই বিস্ফোরণ ঘটে, যার ফলে পুরো এলাকা থমকে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও বিবিসি জানায়, সোমবার সকালবেলা কারখানার ভেতর একটি চুল্লিতে হঠাৎ করে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় কারখানার ছাদ ছিটকে গিয়ে ১০০ মিটার দূরে গিয়ে পড়ে এবং ভেতরে থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে থাকে।
দমকল বাহিনী কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে একের পর এক শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় বহু শ্রমিকের দেহ ৫০ থেকে ১০০ মিটার দূরে ছিটকে পড়ে।
সাঙ্গারেড্ডির জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় কারখানাটিতে ৯০ জন শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে অনেকেই দগ্ধ হয়েছেন বা মারা গেছেন। এখন পর্যন্ত ৪ জনের মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বাকি মরদেহগুলো শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে, যেগুলোর অবস্থা এতটাই খারাপ যে শনাক্ত করতে বিশেষায়িত ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।
আরও পড়ুন: ২০৩০ সালের মধ্যে ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলেই বিস্ফোরণ ঘটেছে। কারখানাটিতে ওষুধের কাঁচামাল ও রাসায়নিক উপাদান মজুত ছিল। তবে চূড়ান্ত তদন্ত শেষ না-হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। ইতিমধ্যে কারিগরি ও ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
তেলঙ্গানার স্বাস্থ্যমন্ত্রী দামোদর রাজানরসিং জানিয়েছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। বিস্ফোরণের ফলে ছাদ উড়ে গিয়ে শ্রমিকদের মরদেহ ছিটকে পড়েছে।
তিনি বলেন, দেহগুলো এতটাই বিকৃত যে শনাক্ত করতেও সময় লাগছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মঙ্গলবার (১ জুলাই) সকালে সামাজিকমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) শোক প্রকাশ করে লেখেন, তেলেঙ্গানার সাঙ্গারেড্ডিতে কারখানায় বিস্ফোরণে প্রাণহানির ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।
তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে প্রতিটি নিহতের পরিবারকে ২ লাখ রুপি এবং প্রতিটি আহতকে ৫০ হাজার রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
ঘটনার পরই তেলঙ্গানার বিরোধী দল ভারত রাষ্ট্র সমিতি (BRS) একে “সরকারের নজরদারির ব্যর্থতা” বলে দাবি করে। তারা এই ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে এবং কংগ্রেস সরকারের শিল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতার দিক তুলে ধরেছে।
তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি এবং রাজ্যপাল জিষ্ণু দেববর্মা-ও শোক প্রকাশ করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








