ইরান হুতিদের সমর্থন অব্যাহত রাখলে যুক্তরাষ্ট্র বসে থাকবে না
ইয়েমেনে শিয়া হুতি বিদ্রোহীদের ইরানের সমর্থন অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র বসে থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট বাহিনীর হামলা বন্ধের আহবান জানিয়েছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি গতকাল বৃহস্পতিবার পিবিএস টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘নিশ্চিতভাবেই ইরান থেকে উড়োজাহাজ যাচ্ছে ইয়েমেনে। আমাদের কাছে এর প্রমাণ আছে।’ এসময় তিনি বলেন, ‘এই অঞ্চলটি অস্থিতিশীল হয়ে পড়লে বা কেউ সীমান্তের ওপারে যুদ্ধে জড়ালে যুক্তরাষ্ট্র বসে বসে দেখবে না, তা ইরানের বোঝা উচিত।’
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কোনো দ্বন্দ্ব চায় না উল্লেখ করে সাক্ষাৎকারে কেরি আরও বলেন,
তবে বন্ধুপ্রতিম দেশগুলো যখন কোনো বিপদে পড়বে, তখন যুক্তরাষ্ট্র পাশে গিয়ে দাঁড়াবে। ইরান সে রকম বিপদই তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি গতকাল টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে সৌদি আরব এবং তার সহযোগী দেশগুলোকে ইয়েমেনে হামলা চালানো বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘হামলা চালিয়ে এই বাহিনী সফল হবে না।’
ইয়েমেন সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের আহবান জানিয়ে আরব দেশগুলোর প্রতি রুহানি বলেন, ‘ইয়েমেনের মতো একটি দেশ বোমা নিক্ষেপের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে না। আসুন, আমরা সবাই কীভাবে যুদ্ধ বন্ধ করা যায় তা নিয়ে ভাবি। যুদ্ধবিরতি নিয়েও আমাদের ভাবতে হবে।’ খবর এএফপি ও রয়টার্সের।
রুহানি বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে, ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ ওই দেশের মানুষের হাতেই। বাইরের দেশের মানুষের হাতে নয়।’
যুক্তরাষ্ট্র সুন্নিপ্রধান সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন আরব বাহিনীকে সমর্থন দিয়েছে। এই বাহিনী ইয়েমেনের ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করা হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। হুতিদের উত্থানের পর গৃহবন্দী হওয়া প্রেসিডেন্ট আবেদরাব্বো মানসুর হাদি পালিয়ে সৌদি আরব চলে গেছেন।
সৌদি আরবসহ জোট বাহিনীভুক্ত দেশগুলো হুতিদের সহায়তা করার জন্য ইরানকে দায়ী করে আসছে। তবে ইরান বারবারই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ইয়েমেনে গতকাল হুতি বিদ্রোহীরা সাবেক ইয়েমেনি প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহের অনুগত বাহিনীর সহায়তায় পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ সাবাওয়ার রাজধানী সুন্নি-অধ্যুষিত আতাকে প্রবেশ করে। স্থানীয়রা জানান, এলাকার কয়েকটি উপজাতি গোষ্ঠীর প্রধান এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা হুতিদের সহায়তা করে। হুতিরা স্থানীয় সরকার পরিষদ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর দপ্তরগুলো দখল করে নিয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসজে
নিউজবাংলাদেশ.কম








