News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১২:১১, ৭ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ১৯:৩৬, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০

‘ঈশ্বর কণার’ খোঁজে ফের সচল এলএইচসি

‘ঈশ্বর কণার’ খোঁজে ফের সচল এলএইচসি

দুই বছর পর ফ্রান্স-সুইজারল্যান্ড সীমান্তবর্তী এলাকায় 'ঈশ্বর কণার' খোঁজে ফের সচল হলো লার্জ হ্যাড্রন কলাইডর (এলএইচসি)। মাটির একশ মিটার নিচে থাকা ২৭ কিলোমিটার পরিধির বৃত্তাকার টানেলে বস্তু বিশ্বের রহস্য উন্মোচনে এই ব্যয়বহুল কর্মযজ্ঞটি চলছে। পুরো বিষয়টি পরিচালনা করছে প্রভাবশালী বিজ্ঞান সংস্থা ইউরোপিয়ান অর্গানাইজেশন ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ (সার্ন)।

বিবিসি জানায়, এবার আগের চেয়েও দ্বিগুণ শক্তিতে প্রোটনের সংঘর্ষ ঘটানো হবে। যার পরিমাণ ১৩ ট্রিলিয়ন ইলেকট্রনভোল্ট। সংঘর্ষের গতি বাড়ানোতে এবার 'ঈশ্বর কণা' ধরা দেবে বলেই গবেষকদের আশা।

পুনরায় চালুর পর সার্নের প্রধান রলফ হুয়ার বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, "আসল কাজ শুরু হবে এখন থেকে।"

সার্নের অ্যাকসিলারেটর ও প্রযুক্তি বিভাগের প্রধান ফ্রেডারিক বোরড্রাই জানান, "দুই বছরের চেষ্টায় লার্জ হ্যাড্রন কলাইডর এখন একদম ফিট।"

লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার (এলএইচসি) নামে বিশ্বের সর্ববৃহৎ কণা ত্বরক যন্ত্রটি জেনেভা শহরের নিকটে ফ্রান্স-সুইজারল্যান্ড সীমান্তে মাটির নিচে প্রায় ২৭ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অবস্থিত। এর সাহায্যেই ঈশ্বর কণা নামে পরিচিত হিগস বোসন কণার খোঁজ চলবে। দৈত্যাকার এই যন্ত্রে প্রায় আলোর সমান গতিতে পরমাণুর ভেতরের প্রোটন কণাগুলোর সংঘর্ষ ঘটানো হয়।

মেরামতের পর যন্ত্রটি আবার চালু করা হলেও মূল বিষয়টি ঘটবে আরও এক মাস পর। এর আগে লার্জ হ্যাড্রন কলাইডর যতবারই চালু হয়েছিল, বিশ্বের তাবৎ বিজ্ঞানী দম আটকে বসেছিলেন একটা কিছু ঘটার আশায়। এবার গতি যেহেতু দ্বিগুণ বাড়ছে, টেনশনটাও বাড়বে জ্যামিতিক হারে।

কোটি কোটি ডলার খরচা করে বানানো যন্ত্রের পেছনে বছরের পর বছর লেগে আছেন ১১৩টি দেশের প্রায় ১৫ হ‌‌‌াজার বিজ্ঞানী। ২০০৭ খ্রিস্টাব্দের ১০ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো পুরো এলএইচসি-তে প্রোটন কণা চালনা করা হয়। এর মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম উচ্চশক্তির সংঘর্ষ ঘটানো হয় ২১ অক্টোবর।

পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার পর কলাইডারটির ভেতরে পরমাণুর ভেতরের প্রোটন কণাগুলোর সংঘর্ষে ঈশ্বর কণা নামে পরিচিত হিগস বোসন কণা তৈরি হওয়ার কথা। এটাই একমাত্র মৌলিক কণা, যাকে এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা যায়নি। মূলত এই প্রক্রিয়াটিকে বড় আকারে না পারলেও ছোটখাট আরেকটা বিগ ব্যাং বলা যায়।

সার্নের ডিরেক্টর জেনারেল রলফ হিউয়ার এলএইচসি চালু করার পর এর সাথে যুক্ত প্রকৌশলীদের অভিনন্দন জানান। দুই বছর ধরে সংস্কার কাজ চালানোর পর এলএইচসি তার কাজের জন্য প্রস্তুত বলেও তিনি জানান।

এর ভেতরে পরিভ্রমণকারী প্রোটন কণার শক্তি ১৩ ট্রিলিয়ন ইলেক্ট্রনভোল্টে উন্নীত করা হবে, যা হবে এর আগের বারের তুলনায় দ্বিগুণ। আর সংঘর্ষের পরপরই অ্যাটলাস নামের এক ডিটেক্টর টানেলের ভেতর আতিপাতি করে খুঁজবে হিগস বোসন ওরফে 'ঈশ্বর কণা'।

পশ্চিমের বিজ্ঞানী হিগস ও বাংলার সত্যেন্দ্রনাথ বসু 'ঈশ্বর কণা'র প্রথম ধারণা দেন। বস্তুকে ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর ভাগে ভাগ করতে করতে প্রতিটি কণারই খোঁজ পাওয়া গেলেও, কেবল ভর তৈরির কণাকে পাওয়া যায় নি। কিন্তু, ভর ছাড়া বস্তু হয় না। প্রতিটি বস্তুই ছোঁয়া যায়, উপস্থিতি টের পাওয়া যায়, ওজন মাপা যায়। এই নিখোঁজ কণার ডাকনাম 'ঈশ্বর কণা'।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসজে/কেজেএইচ

নিউজবাংলাদেশ.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়