ঘাতক রোবট
যুদ্ধে ঘাতক রোবট ব্যবহারের নৈতিকতা নিয়ে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় চলছে আন্তর্জাতিক সম্মেলন। মানবাধিকার সংস্থা, অস্ত্র বিশেষজ্ঞ এবং জাতিসংঘের কয়েকটি সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা এই সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন।
সায়েন্স ফিকশন ছবিতে আমরা হামেশাই রোবটদের দেখা পাই। রোবট শুনলেই আমাদের টারমিনেটর সিনেমার কথাই প্রথমে মনে পড়ে। বেশিরভাগ সময় এই রোবটগুলোকে দেখা যায় অশান্তি সৃষ্টি করতে। এতদিন যে রোবটদের মারদাঙ্গা দৃশ্য সিনেমায় দেখা যেতো তা বাস্তবেও দেখার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এই যন্ত্রের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে সামরিক সদস্যরা হয়ত সম্মুখ সমরের প্রাণহানি বা ক্ষতি এড়াতে পারলেও মানবজাতি হুমকির মুখে পড়বে কি-না, তা নিয়ে চিন্তিত রয়েছে। কিলার রোবট বা ঘাতক রোবটকে কিছু নির্দেশনা দিয়ে শত্রু স্থাপনায় ছেড়ে দিলেও নিশ্চিন্ত থাকা যাচ্ছে না।
তারা বলছেন, ইদানিং সামরিক অভিযানে ব্যাপকহারে ব্যবহৃত ড্রোনকেও অনেকে "রোবট" এর আওতায় ধরে পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি দিতে চাচ্ছেন। আমরা যাকে কিলার রোবট বলছি সামরিক ভাষায় একে বলা হয় লিথাল অটোনোমাস উইপোনস (এলএডাব্লিউএস) বা স্বয়ংক্রিয় প্রাণঘাতী অস্ত্র।
জেনেভা থেকে বিবিসির সংবাদদাতারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যায়ে থাকা এই ঘাতক রোবটের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা রয়েছে। কিলার রোবট নামে অধিক পরিচিত এই স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র কোনো শত্রুকে সে হত্যা করবে কি না নিজেই সে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অবশ্য, এই অস্ত্র এখনও কোনো যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়নি।
সামরিক বিষয়ে আগ্রহীদের মধ্যে এবং বিভিন্ন সমর বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ঘাতক রোবট নিয়ে ইতোমধ্যেই প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। লড়াইয়ে বা যুদ্ধক্ষেত্রে এই স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রটি কিভাবে নিজেই হত্যার মতন সিদ্ধান্ত নেবে বা কিভাবে সামরিক ও বেসামরিক লক্ষ্য চিনবে তা পরিস্কার নয়। কিলার রোবট ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ বা গণহত্যার মত কোনো ঘটনা ঘটিয়ে ফেললে তার দায়িত্ব কে নেবে বলেও প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, কিলার রোবট নামে পরিচিত এই ঘাতক যন্ত্রটি নিষিদ্ধ করা হোক। যুক্তি হিসেবে ২০ বছর আগে দৃষ্টি বিনষ্ট করতে সক্ষম লেজার অস্ত্র নিষিদ্ধ করার ঘটনাও উল্লেখ করেছেন অনেকে। তবে, মানুষের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে সীমিত পর্যায়ে এই অস্ত্র ব্যবহারে অনুমতি দেয়া উচিত বলে কোনো কোনো দেশ মতামত জানিয়েছে। এদিকে, 'কার্যকর নিয়ন্ত্রণ'-এর সংজ্ঞা নিয়ে সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
এলএডাব্লিউএস বা স্বয়ংক্রিয় প্রাণঘাতী অস্ত্র জাতিসংঘের অধিবেশনেও আলোচনায় উঠে এসেছে। এ ধরণের অস্ত্র পরিকল্পনায় ভবিষ্যৎ রোবটের প্রভাব নৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে কতটা প্রয়োজনীয় তা নিয়ে আলোকপাত করা হয় আলোচনায়। এছাড়া আলোচকরা এধরণের এলএডাব্লিউএস বা কিলার রোবট তৈরি, সামরিক বাহিনীতে সরবরাহ ও তা দিয়ে সামরিক অভিযান পরিচালনার সম্ভাব্য পরিনতি নিয়ে আলোচনা করেন। জাতিসংঘের এ অধিবেশনে উইপোন নেভিগেশন কনভেনশনের সদস্যরাও যোগ দেয়।
জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন ২০১৩ সালের নভেম্বরের সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘কিলার রোবট ব্যবহার মানবাধিকার বিপন্ন করবে এবং যুদ্ধকালীন সময় এর চূড়ান্ত প্রয়োগ দেখা যাবে।’ তিনি আরও বলেন, “মানবাধিকারের পাশাপাশি এর অপব্যবহার আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বিশাল প্রভাব ফেলবে।”
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসজে/এএইচকে
নিউজবাংলাদেশ.কম








